১৯২১ থেকে ২০২১। শতবর্ষের যাত্রাপথ পেরিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ১০১ বছরে পা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যার প্রথম ৫ দশকের ইতিহাস মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি রক্ষার সাহসী সৈনিক জন্ম দেয়ার।
১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করে। এ অঞ্চলের মানুষকে আলোর পথ দেখাতে ১৯২১ সালের পয়লা জুলাই শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের শেকলে বন্দি শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতিকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখাও শুরুহয় সেদিন থেকেই।
তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি মহল বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় বিরোধিতা করলেও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে জাতি বিনির্মাণে ভূমিকা রাখে পূর্ববঙ্গের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বিশ্ববিদ্যালয়টি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরেই জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের। এরপরের ইতিহাস শুধুই এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু লাল সবুজ পতাকার রূপকারদের আতুরঘর এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতার ৫০ বছরে তার শিক্ষার মান কতটুকু বিশ্বমানের করতে পেরেছে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টির উৎপত্তি হয়েছিল কতগুলো রাজনৈতিক-সামাজিক ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয় যথার্থভাবেই তার দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের যা কিছু মহৎ অর্জন তার পেছনে অনবদ্য ভূমিকা এককভাবে যদি কোন একটি প্রতিষ্ঠানের থাকে সেটি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পরে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই একটা বিপর্যয়ের মধ্য পরে গেছে। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে আমরা যে পিছিয়ে আছি এটা তো অস্বীকার করা যাবেনা। কিন্তু বিশ্ব র্যাংকিংয়ে যারা ১-১০ এর মধ্যে আছে তাদের যে বার্ষিক বরাদ্ধ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বরাদ্ধ এটি যদি আমরা তুলনায় নিয়ে আসি তাহলে অন্তত কিছুটা বোঝা যাবে যে কত ধরনের সীমাবদ্ধতার মাঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’
উচ্চ শিক্ষায় কুলীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে তাল মেলাতে নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা ও পর্যাপ্ত গবেষণার প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে সশরীরে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে বিকেল ৪টায় ভার্চুয়ালি একটি আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে।
বার্তাবাজার/পি