কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২০-২১ অর্থ বছরের শেষ কর্মদিবসে অনুপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের।
যদিও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ১১ (১) ধারা অনুযায়ী ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বক্ষণিক প্রধান একাডেমিক ও প্রশাসনিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ১৩(১) ধারা অনুযায়ী রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন আবাসিক কর্মকর্তা হিসেবে ক্যাম্পাসে অবস্থানের কথা রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রেজারার সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা না হলেও আজ অর্থ বছরের শেষ কর্মদিবসে ছিলেন না তিনিও।
বুধবার (৩০ জুন) সংবাদ সংগ্রহের কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন গেলে তাদের অফিসে তালা ঝুলানো দেখতে পাওয়া যায়।
এসময় “তারা কেউ আজ অফিস করেছেন কিনা” জানতে চাইলে ট্রেজারার অফিসের সেকশন অফিসার নমিতা পাল বলেন, তাদের কাউকে আজ দেখিনি, আর সকালে ভিসির দপ্তরের একজন সেকশন অফিসার ফাইল নিয়ে ঢাকা গেছে দেখেছি।
এদিকে এ অর্থ বছরের শেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনে আনাগোনা দেখা যায়। এসময় একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, উপাচার্য-রেজিস্ট্রার কেউ উপস্থিত না থাকায় প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর নিতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, সব প্রশাসনিক কাজ একদম আপ টু ডেট হয়ে যাবে আজকে পর্যন্ত। কোনো সমস্যা নাই। করোনা মহামারির জন্য এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ঢাকায় থেকে ক্যাম্পাসের ফাইল-পত্র সাক্ষরসহ বিভিন্ন কাজ কীভাবে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপ টু ডেট হবে এটাই গুরুত্বপুর্ণ। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
একই বিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ক্যাম্পাসে না থাকার বিষয়ে শিক্ষকরা কোন ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন সেটা আমার জানা নেই। শিক্ষকদের ফাইলে উপাচার্যের স্বাক্ষর নিয়ে অনেকে যোগদান করেছেন।
তিনি তার ঢাকা যাওয়ার ব্যাপারে বলেন, আজকে আমার পূর্বনির্ধারিত একটা মিটিং ছিল ইউজিসির সাথে। ড্রাইভার-হেল্পারদের নিয়ে কিছু পদ চেয়েছিলাম সেগুলো আবার রেটিং হয়। সেখানে আমাদের একজন উপস্থিত থাকা লাগে। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।
এবং আজকে তার কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, আমি আমার কাজ অনলাইনে শেষ করেছি। এবং আজকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নিয়োগপত্রের ব্যাপার। সেখানে আমি ঢাকায় সাইন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজে আসা গাড়িতে করে নিয়োগপত্রগুলো পাঠিয়েও দিয়েছি।
এ বিষয়ে ট্রেজারারের মন্তব্য জানতে তার সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
শেষ কর্মদিবসেও তারা উপস্থিত না থাকার ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু পরিষদের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির হুসেইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী তাদের সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করা উচিত। আজ শেষ কর্মদিবসেও তারা ক্যাম্পাসে নেই, এতে অনেকের কাজে সমস্যা হয়েছে। আর ঢাকা ফাইল-পত্র নিয়ে গিয়ে কাজ করাবে এ বিষয়টা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, যেহেতু এটা একটা বিশেষ পরিস্থিতি, সেক্ষেত্রে তাদের না আসার কোনো প্রেক্ষাপট হয়তো থাকতে পারে। তবে আমি বলবো উপস্থিত থাকা উচিত ছিল, উপস্থিত থাকলেই কাজগুলো সহজ হতো।
সাজ্জাদ বাসার/বার্তা বাজার/টি