নীলফামারীতে চিকিৎসকের অভাবে ব্যহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা
নীলফামারীর ডোমারে শতকরা ৩৩% চিকিৎসক দিয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা। এতে করে ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা এবং বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার প্রায় আড়াই লক্ষাধীক মানুষ। অপারেশন থিয়েটার সম্পূর্ণ থাকলেও সার্জন ও এ্যানেস্থেশিয়া না থাকায় এক বছর ধরে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে।
পাশাপাশি টেকনেশিয়ান না থাকায় ৬ মাস ধরে আল্ট্রাসনোগ্রামও বন্ধ রয়েছে এসব সমস্যার কারনে রোগীদের বাইরে গিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও অপারেশন করতে হচ্ছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১জন চিকিৎসকের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসক রয়েছেন ৭জন।
মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব) ৩ জনের পরিবর্তে ২ জন, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ডেন্টাল পদ ১টি শুন্য, ক্যাসিয়ার পদ ১টি শুন্য, প্রধান সহকারী পদ ১টি শুন্য, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদ ৩টির মধ্যে রয়েছে ২টি এবং ১টি পদ শুন্য, এমএলএসএস পদ ৪টির মধ্যে ৩টি রয়েছে ১টি পদ শুন্য, ওয়ার্ড বয় ১৬ জনের পরিবর্তে রয়েছে ৩জন, নার্স ২০ জনের পরিবর্তে রয়েছে ১৫জন এর মধ্যে কাজ করছে ১৩জন, পরিছন্নকর্মী পদে ৫টি বর্তমানে কাজ করছে ৩জন এবং ২টি পদ শুন্য, কুক/মসলাচি পদ ২টির মধ্যে ১টি পদ শুন্য রয়েছে।
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের রহিমা বেগম জানায়, আমার ১ মাস বয়সের শিশুর চিকিৎসার জন্য বোড়াগাড়ী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৪ দিন ধরে ভর্তি হয়ে আছি এখানে কোন শিশু ডাক্তার না থাকায় বাইরে থেকে ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। এতো বড় হাসপাতালে কোন শিশু বিশেজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় বাঁচ্চাদের নিয়ে মহা বিপদের মধ্যে পড়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রায়হান বারী জানান, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ সুইপার, ওয়ার্ডবয় সংকটের কারনে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। এখানে যন্ত্রপাতির কোন সমস্যা নেই, এক্সরে ইসিজি সচল রয়েছে। এখানে চিকিৎসকের পোষ্ট রয়েছে ২১টি এর মধ্যে চিকিৎসক ছিল ১১ জন এবং করোনা কালীন সময়ে আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪জন চিকিৎসক নীলফামারী সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ডেপুটেশনে কর্মরত রয়েছে, বর্তমানে আমি সহ মোট ৭জন চিকিৎসক দিয়ে কোন রকম চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, আমাদের কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটার সম্পূর্ন রয়েছে কিন্তু সার্জন ও এ্যানেস্থেশিয়া না থাকায় ১ বছর ধরে অপারেশন থিয়েটার চালু করা যাচ্ছেনা, টেকনেশিয়ান না থাকার কারনে আল্ট্রাসনোগ্রাম বন্ধ রয়েছে।
পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পুরুষ এবং মহিলা ওয়ার্ডে ১টি করে মোট ২টি বেড সম্পূর্ন ফ্রি রয়েছে। আর আমাদের চিকিৎসকরা স্ব-স্ব কর্মস্থলে থেকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছেন।
তারিকুল ইসলাম সোহাগ/বার্তা বাজার/টি