র‍্যাবের পোশাক পরে যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে মধ্যরাতে ঘুম থেকে ডেকে তুলে মিনহাজুল ইসলাম (২১) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে র‍্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে উপজেলার পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের নারিকেল বাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মিনহাজুল ওই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে বলে জানা গেছে।

ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে র‍্যাবের পোশাক পরা কয়েকজন লোক এসে হঠাৎ করে ঘরের টিনের বেড়া ও দরজা জানালায় আঘাত করতে থাকে। তারা মিনহাজুল ইসলাম (২১) কে ঘুম থেকে ডেকে তুলে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা রংপুর র‍্যাব ক্যাম্প থেকে এসেছেন বলে দাবি করেন।

মিনহাজুল ইসলামের মা মমিনা বেগম বলেন, প্রতিদিনের মতো এশার নামাজ পড়ে বাড়িতে এসেছিলো মিনহাজুল। তারপর এসে শুয়ে পড়ে। রাত ৩ টার দিকে অনেক গুলো লোক এসে বাড়ির দরজা জানালায় আঘাত করে। এরপর তার (মিনহাজুলের) ঘরে ঢুকে তাকে কিছু জিজ্ঞেস করে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায়। বাড়িঘরে তল্লাশি চালায় তারা। কিন্তু কিছু না পেয়ে শুধু মিনহাজুলকে হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে নিয়ে যায়। তাদের পরনে র‌্যাবের পোশাক ছিল।

মিনহাজুলের মা আরও জানান, মিনহাজুল মাধবদীর একটি মাদ্রাসায় পড়ত। গত রোজার মাঝামাঝি সে বাড়িতে চলে আসে। তবে মিনহাজুল কোনও রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত কিনা সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তার মা।

মিনহাজুলের চাচাতো ভাই রনি জানান, মিনহাজুলকে নিয়ে যাওয়ার সময় র‌্যাব সদস্যরা তাকে ও তার বড় ভাই জয়নাল আবেদিনকে ডেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। তারা কোনও কথা না বলে কাগজে স্বাক্ষর করে দেন। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা মিনহাজুলকে নিয়ে চলে যায়।

রনি বলেন, প্রায় ২০/২৫ জন র‌্যাব সদস্য মিনহাজুলকে এসে তুলে নিয়ে যায়। আমি তার অপরাধের কথা জিজ্ঞাসা করলেও তারা কোনও উত্তর দেননি। শুধু আমাদের কাছে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে। আমরা এখনও জানিনা তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা তার জন্য খুব উদ্বিগ্ন।

মিনহাজুলের মামা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নে নরসিংদীর মাধবদী দারুল উলুম ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় হেদায়াতুন নাহু নিয়ে পড়াশোনা করত। তার কী অপরাধ তা আমাদেরকে জানানো হয়নি। সে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলো না বলেও দাবি করেন শফিকুল ইসলাম।

উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির জানান, মাদ্রাসা ছাত্রকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবরটি সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে এ ব্যাপারে আমরা আনুষ্ঠানিক কোনও তথ্য পাইনি। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীর পরিবারও কোনও অভিযোগ দেয়নি।

এ ব্যাপারে উলিপুর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মাহমুদ হাসান জানান, এ বিষয়ে আমরা অবগত নই। এমন কোনও খবর আমাদের জানা নেই। তবে ভুক্তভোগী পরিবার এ বিষয়ে কোনও জিডি করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

এ নিয়ে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব ১৩) এর রংপুর ক্যাম্পে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুজন মোহন্ত/বার্তা বাজার/এফএইচপি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর