গল্প: শিবুদার স্নান

আমি যে পাড়াতে থাকি সেখানে মানুষজন খুবই আন্তরিক। সবাই সবার ঘরের খবর জানে। তাই কাউকে কেউ পর ভাবে না। পিতৃহারা কুন্তির ঘরে রান্না করে খাওয়ার চাল নেই সেটা সবাই যেমন জানে, তেমনই জানে সরকারি চাকরিজীবি ও দুর্নীতিগ্রস্থ হাবুল চাচার বৌয়ের রুক্ষ্ম মেজাজের কারণে চুলায় মাঝে মাঝে হাড়ি উঠে না। ৯৭টি পরিবার নিয়ে গড়ে উঠা মফস্বলের এই পাড়াটির নাম শান্তিরপাড়া। আসলে এই পাড়ায় শান্তি সবসময়ই বিরাজ করে। দুই-তিন প্রজন্মের কেউই বলতে পারবে না এই মহল্লার কোনো বিবাদের কারণে পুলিশ পর্যন্ত যেতে হয়েছে। টুকটাক তর্ক হলে তা মিটিয়ে দেন আমাদের শিবুদা।

শিবপ্রসন্ন সরকার তার নাম। বয়স ৫০ এর কাছাকাছি। শারীরিকভাবে বেশ সুটাম। মাথা ও মুখে কাঁচাপাকা চুল না থাকলে তাকে বয়স বিশের তরুণ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। কাঠব্যবসায়ী বাবার একমাত্র সন্তান সে। বাবা গত হয়েছে আধাযুগ হলো। বিশাল ব্যবসা এখন দেখাশোনা করে ম্যানেজার নুরু মিয়া। শিবুদার একটাই মাত্র বৌ। ৯ বছরের বিবাহিত জীবনে কোনো সন্তান হয়নি। মা আর বৌকে নিয়েই শিবুদার সংসার। কিন্তু শিবুদাকে সংসারী বললে ভুল হবে। আমাদের বাড়ির পূর্বদিকে যে গলিটা সদর রাস্তায় চলে গিয়েছে তার মোড়ে কেরোসিন কাকার চায়ের দোকানে তাকে সব সময় বসে থাকতে দেখা যায়। ভোরের আলো ফোঁটার পর চায়ের কেতলি থেকে প্রথম যে চা-টা কাপে ঢালা হয় সেটা শিবুদার জন্য। আবার গভীর রাতে টংয়ের ঝাঁপ ফেলে দেওয়ার আগ মুহুর্তে শিবুদা বলে উঠে-‘কেরোসিন কাকু, দেন চুমুক দেই এক কাপ কড়া লিকারের ঠোঁটে’। ছোট বেলায় ঘরে রাখা কেরোসিন পান করে ফেলার পর তাকে নিয়ে বেশ দহরম মহরম হয়েছিল। সেই থেকে নাকি তার নাম কেরোসিন।

এমনিতে খুব রসিক মানুষ আমাদের শিবুদা। কাজকর্ম করার চেয়ে অকাজেই তার মনোযোগ বেশি। গানবাজনা না পারলেও হেরে গলায় প্রায়ই গেয়ে উঠে – ‘আজ অ্যাই বৃষ্টির কান্না দেখে…’। পাড়ার ছেলেপিলেদের নিয়ে কিছু করার একটা বাসনা সবসময় তার মাথায় ঘুরে। কিন্তু কিছু একটা আর হয়ে উঠে না। কারণ কাজের চেয়ে অকাজে গুরুত্ব দেওয়া মানুষটার মূল্য নাকে সর্দি ঝুলানো ছেলেটাও দেয় না। বাবার বিশাল ব্যবসা দেখাশোনা করে না, এমনকি তার বৃদ্ধা মাকে প্রায়ই দেখা যায় বাজারের থলে হাতে দোকানের দিকে হেঁটে যেতে। তার বৌটা অবশ্য বেশ ভালো ঘরের মেয়ে। স্বামীকে যথেষ্ট সম্মান করে বলেই জরুরি প্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হয়না। পাছে কেউ যাতে খোঠা না দেয় -‘আকাইম্মা জামাইয়ের ঝি বৌ’। গতবারের বর্ষায় শিবুদাদের ঘরের সামনে পানি জমেছিল। জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে কেউ বের হতে পারেনি। কারণ দীর্ঘদিনের বাগানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শিবুদা জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করেই লুঙ্গিটা উরু বরাবর তুলে পানিপথ পার হয়ে চলে আসতো কেরোসিনের দোকানে। একইভাবে চলেও যেতো। দিন সাতেকের জলাবদ্ধতায় যখন সাপ-খোকের আনাগোনা বেড়ে গেলো শিবুদাদের সরকার নিবাসে, তখন আমি তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে কেরোসিনের দোকানে যাচ্ছিলাম। একতলা বাড়ির ছাদ থেকে শিবুদার মা বেশ জোরেই আকুতি করে বলল তাদেরকে উদ্ধার করতে। এই পানি নিষ্কাশনের জন্য একটা মজুর জোগাড় করে দেওয়ার আবদার শুনে আমি বেশ মর্মাহত হলাম।

সেদিন কাকীমাকে আশার বাণী শুনিয়ে সত্যিই পরদিন একজন লোক নিয়ে হাজির হলাম। লোকটা পাঁচিলের এক পাশে থাকা পাইপের মুখে কোদালের কোণা দিয়ে আঘাত করার সাথে সাথে পানি যাওয়ার পথ পরিস্কার হয়ে গেল। তেলেসমাতি কাণ্ড দেখিয়ে ঘন্টা খানেকের মধ্যেই পানিমুক্ত হলো সরকার নিবাসের আঙিনা। আমি এর আগে কোনোদিন এই বাড়ির ভেতরে যাইনি। কাকীমা বেশ জোড়াজুড়ি করে নিয়ে গেলেন। আমার জন্য খাবারের আয়োজন করলেন হরেক পদের। সেদিন আধাবেলা এই বাড়িতে কি হয়েছিল তার কিছুই জানেনা শিবুদা। উনি তখন কেরোসিনের দোকানে বসে ইশকুল ফাঁকি দেওয়া ছেলেদেরকে তার ছোট্টবেলার সিলেট ভ্রমণের গল্প শুনাচ্ছেন। হা করে তার শ্রোতারা শুনছেন সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত গল্পের চমকপ্রদ সম্ভার। আর এদিকে আমি মুরগির রোস্ট, রুই মাছের পেটি, আলুর দম, পোলাউ, পানতোয়া খাচ্ছি তার ঘরে বসে।

শিবুদাকে দেখে কেউ বলবে না তার কোনো দুঃখ আছে। কিন্তু তার স্ত্রীকে দেখেই আমার মনে হলো, এই নারীর জন্ম হয়েছে হিরোশিমা-নাগাসাকির বিস্ফোরণের দিন। তাই সে চির দুঃখী। বৌদির সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করলাম। কাকীমা, বৌদি আর আমি মিলে লুডু খেললাম সেদিন। বেশ মিশে গেলাম পরিবারটির সাথে। প্রায়ই কাকীমা ডেকে নিয়ে আমাকে দিয়ে বাজার করায়, ওষুধ আনায়, ইলেক্ট্রিসিটি বিল দেওয়ায়। একরকম ঘরের ছেলের মতই হয়ে গেলাম। এক বৃদ্ধার সন্তানস্নেহ আর তার ঘরের বৌয়ের ভ্রাতৃস্নেহে আমি বাঁধা পড়ে গেলাম। শিবুদা তখনও কেরোসিনের দোকানে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আজগুবি গল্প বলায় ব্যস্ত।

বর্ষার এই সময়টায় আমাদের দেশে বেশ গরম পড়ে। বিশেষ করে যেদিন বৃষ্টি থাকে না সেদিনের গরম হয় বৈশাখের চেয়েও ভয়াবহ। দিনে দু’বার স্নান না করলে আমার চলে না। সেদিন সকালে স্নানের পর সরকার নিবাসের সামনে দিয়ে যাওয়ার কালে বৌদি আমাকে ডাকলেন। ‘ঝুমন, ভাইটি আমার আয় একবার এদিকে’।

যাওয়ার পর বৌদি বললেন, তোর দাদাকে ডেকে নিয়ে আসবি?

আমি বললাম- সে না হয় আনব। কি দরকার বলো।

বৌদি যা বললেন তা শোনার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। বেশ অবাক হয়ে শুনলাম বৌদি বলছে- আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। বাবা বারবার খবর পাঠাচ্ছে যেতে। ভোরে তোর দাদাকেও বলেছি। কিন্তু লোকটার কোনো খবর নেই। বল বিয়ের দিনটা কেউ ভুলে যায়?

আমি মাথা দুলিয়ে বললাম- মস্ত অন্যায় করেছে। আচ্ছা যাই হোক। তুমি ব্যাগ গুছিয়ে নাও। আমি কেরোসিন কাকার দোকানের সামনে দিয়েই তোমাকে নিয়ে যাবো। সেখান থেকে দাদাকে ধরে নিয়ে যাবে।

একথা বলার পর আমার অবাক হওয়ার পালা শুরু। বৌদি মনে হয় এতদিনের জমানো কথা বলা শুরু করলেন। গড়গড় বকরে বলতে লাগলেন- গেলেই হবে না। লোকটা আজ ১২ দিন ধরে স্নান করে না, দাঁত মাজে না। তিনি এতই ব্যস্ত থাকেন যে দাঁত মাজার সময় পাননা, ঘুম থেকে উঠে চোখের পিচুটি নিয়েই ছুটেন দোকানে চা পান করতে। আচ্ছা তুই বল এমন গরমের দিনে কেউ স্নান না করে থাকে? আমি অনেক বলি। কিন্তু আমার কথা কানে তুলেই না।

আমি হা করা মুখটা বন্ধ করে বললাম- তুমি শাস্তি দিও। তাহলেইতো করে।

উনি বললেন- শাস্তি কি আর কম দেই? উনার সাথে আমি ঘুমাই না। রাতে আলাদা করে গিয়ে আমি দরজা বন্ধ করে ঘুমাই। মাঝে মাঝে গায়ে জল ঢেলে দেই। তবুও শিক্ষা হয় না। উনি গা মুছে চলে যান। ভাইটি আমার তুই একবার তোর দাদাকে ডেকে নিয়ে আয়।

আমি কোনো কথা না বলে ঝিম ধরা মাথায় ছুটে চললাম কেরোসিনের দোকানের দিকে। ভাবলাম, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালানো এক সভ্য সমাজের ব্যক্তি কিভাবে ১২ দিন স্নান না করে থাকে? কিভাবে এঁটো মুখে চলাফেরা করে ১২ দিন? কোনো উত্তর পেলাম না।

ততক্ষণে আমি কেরোসিনের দোকানে হাজির। গিয়ে দেখি জটলা পাকিয়ে শিবুদা ভাষণ দিচ্ছে। বিষয় বর্ষায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। তাই সবাইকে সাবান দেওয়া হবে হাত দেওয়ার জন্য। পয়সা উনিই দিবেন। এটা শোনার পরে আমার মাথায় রক্ত উঠে গেলো। একটা মানুষ ১২ দিন স্নান না করে কিভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালায়। বেশ ক্ষেপে গেলাম। আমার অগ্নিমূর্তি দেখে অনেকেই অবাক হলো। কারণ কেরোসিনের দোকানে আড্ডা দিতে আসাদের মধ্যে আমাকেই সবাই সবচেয়ে শান্ত স্বভাবের বলে জানে।

শিবুদা বেশ হাসিমুখেই বলল- ঝুমন, ছোট্টভাইটি আমার। কিছু বলবি?

আমি চেঁচিয়ে উঠে বললাম- ১২ দিন ধরে না মাজা দাঁত কেলিয়ে হাসবেন না। আপনার লজ্জা না থাকলেও আমার আছে। আপনিতো বাবু ১২ দিন ধরে গায়ে জলও ঢালেন না। বড় ছোট কাজে জল খরচা হয়তো আপনার দ্বারা?

আমার এমন কথায় সবাই অবাক হলো। যেমন অবাক আমি হয়েছিলাম শিবুদার স্ত্রীর সাথে কথা বলার সময়। পিনপতন নীরবতা তখন কেরোসিনের দোকানে। টানা ২০ সেকেন্ড এমন অবস্থার পর নীরবতায় ছেদ ঘটালেন খোদ শিবুপ্রসন্ন সরকারই। হনহনিয়ে বাড়ির পথে হাঁটার আগে পায়ের চটি জোড়ায় জমে থাকা বালি পরিস্কারের জন্য আঘাত করলেন একটার তলায় আরেকটাকে। শিবুদা চলে যাওয়ার পর আমাকে সবাই চেপে ধরলো ঘটনা খুলে বলার জন্য। এমনভাবে ধরলো যে আমি বিপদে পড়ে গেলাম। মনে মনে নিজেকে গালি দিচ্ছি, এ আমি কি করলাম? কেন বললাম অন্যের ঘরের কথা। কিন্তু জবরদস্তিতে হেরে গিয়ে বলেই দিলাম আসল ঘটনা। এবার সবাই অবাক হওয়ার বদলে ক্ষেপে গেলো। শিবুদার হেড অফিস কেরোসিনের দোকানে না আসার সিদ্ধান্ত নিল। চায়ের কোনো কাপে চুমুক দিবে না বলল। এমনকি যে বেঞ্চিতে পায়ের উপর পা তুলে শিবুদা বসে থাকতো সেটাকেও বদলানোর সিদ্ধান্ত নিল।

আমি সেদিন চলে এসেছিলাম। পরদিন মামার অসুস্থততার জন্য চলে গেলাম মামাকে দেখতে। আসলাম দিন পাঁচেক পরে। এসে দেখি শান্তিরপাড়া বদলে গেছে। আগের মত হৈহুল্লোড় নাই। শ্মশানের মত অবস্থা। সরকার নিবাসের সামনের রাস্তার পাশের পাঁচিলে কচু পাতা দিয়ে কে জানি লিখে রেখেছে ‘ইহা খাচ্চর শিবুর বাড়ি’। কিছুটা কৌতুহলে বাড়ির ভেতরে গেলাম। কাউকে তেমন পেলাম না। তাদের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করা আলতা দেবীকে বসে থাকতে দেখলাম। তার কাছ থেকেই জেনে নিলাম ঘটনা।

ঐদিন দোকানের ঘটনার পর শান্ত স্বভাবের শিবুদা রেগে গিয়ে তার বৌয়ের সাথে বাজে আচরণ করে। গালাগালি করে এক পর্যায়ে গায়ে হাতও তুলে কাপুরুষের মত। নিরীহ বৌটা পুরুষতান্ত্রিক দেশের চিরায়ত আচরণ দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। বাপের বাড়ি চলে গিয়েছে। বৌ পেটানোর সময় বাড়িতে দুধ দিতে আসা পঞ্চু গোয়ালা জেনে ফেলে ঘটনা। বার্তা বাহকের মত প্রতিটা বাড়িতেই তিনি বলে বেড়ান তা। কিছুক্ষণের মধ্যেই শান্তিরপাড়ার বাসিন্দারা হানা দেয় সরকার নিবাসে। শিবুদাকে তিরস্কার করে খুব অকথ্য ভাষায়। এসময় তার মা ফুলমতি দেবিকে দেখা যায় নীরবে অশ্রুপাত করতে। সবাই চলে গেলে শিবুদা কিছুক্ষণ বসে থাকেন। নীরবে কি জানি ভাবেন। চলে যান সোজা মতিলালের বড় পুকুরে। সেখানে আস্তেধীরে নেমে স্নান শুরু করেন। বিকাল থেকে গভীর রাত অবধি চলে তার গাত্রধৌতের কাজ। পরদিন সকালে পূর্বপাড়ার বিধান দাস যখন শহরে যাওয়ার ট্রেন ধরতে পুকুরের পাড় দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন দেখতে পান শিবুদা অচেতন হয়ে পুকুরের কিনারে পড়ে আছেন। সেই তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর ধরাধরি করে সবাই তাকে নিয়ে যায় হাসপাতালে। ডাক্তার বলছেন তার নিউমোনিয়া হয়েছে। অবস্থা খুব গুরুতর না হলেও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

আলদা দেবী এই বাড়িতে কাজ করেন ৩ যুগ ধরে। তিনি বলছেন, শিবু ছোট বেলা থেকেই অলস। স্নান না করাটা তার অভ্যাস। এটা যারা জানে তারা কখনই কিছু বলেনি।

আমি আর সময় নষ্ট করলাম না। সাইকেল নিয়ে বের হয়ে পড়লাম হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। যাওয়ার সময় দেখলাম কেরোসিনের দোকান ফাঁকা। একা বসে আছে কেরোসিন কাকা। আমাকে ডাক দিলেন। উনার দোকানের সামনে দাঁড়াতেই হাউমাউ করে কেঁদে দিলেন। বললেন, ‘শিবু আমার দোকানের ৩০ বছরের কাস্টমার। আজ সে আসে না অনেকদিন ধরে বুকটা খা খা করছে আমার’। আমি যখন প্রশ্ন করলাম তাহলে বাকিরা কই। ওরা না আসবে বলেছিল শিবুদা না আসলে? কেরোসিন কাকা বললেন, ‘শিবু খাচ্চরের মত অপরিস্কার থাকলেও তার শূন্যতা কেউ মানতে পারেনি। গিয়ে দেখো হাসপাতালের সামনে অনেক মানুষ’।

আমি কথা না বাড়িয়ে মিনিট বিশেক প্যাডেল মেরে হাসপাতালের সামনে এলাম। আজ নাকি শিবুদা ছাড়া পাবে। অনেককেই পেলাম সেখানে। হাবুলদা, সুরেন কাকা, নজরুল ভাই, নুরু কাকা, শ্যামল গোস্বামী, নিতুন ঠাকুর বসে আছে হাতে টুথপেস্ট আর লুঙ্গি নিয়ে। শিবুদাকে স্নান আর দাঁত মাজার জন্য উপহার দিবে বলে। আমি যখন হাসপাতালে শিবুদার বেডের পাশে গেলাম তখন শিবুদা বসে আছে। পাঁশে দাঁড়িয়ে কাকীমা। কিছুক্ষণ আগে শিবুদা স্নান করেছে। মাথায় তেল দিয়ে সিঁথি করা। নতুন ধুতি, পাঞ্জাবিতে বেশ লাগছিল তাকে।

আমি পাশে গিয়ে বললাম, ‘কেমন আছেন শিবুদা?’ উনি হাউমাউ করে শিশুদের মত কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন, ‘আমি আর কোনো দিন স্নান না করে থাকবো না, প্রতিদিন দাঁত মাজবো। তুই মালতীকে এনে দে। আমি তাকে ভালোবাসি। আর তাকে মারব না কখনই’।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর