কঠোর লকডাউনে চালু থাকছে গার্মেন্টস ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

সারা দেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবার(১ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ৭ দিনের ‘কঠোর লকডাউন’। এই সময়ের মধ্যে অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। কিন্তু জরুরী পরিষেবার বাইরে শুধু রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প-কারখানা, বন্দর, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, খুবই সীমিত পরিসরে ব্যাংক ও কোরবানির হাট খোলা রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম-কানুন না মানলে গার্মেন্টসও বন্ধ করে দেবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। কারখানার শ্রমিকদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে কাজে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে শিল্প মালিকদের বলা হয়েছে। বন্ধ থাকবে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল।

মঙ্গলবার(২৯ জুন) রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে হওয়া সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রীদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদসচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসনসচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ছোট গাড়ি চালাতে পারবে। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনা-নেওয়া করতে হবে। তবে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির মালিক ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছোট গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না, তাদের হোম অফিস বা ফ্যাক্টরির ভেতরে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, জরুরি সেবা ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারবে না। অতীতের মতো কোনো মুভমেন্ট পাসও থাকছে না। কঠোর বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহলদলের সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। যারা বিধি-নিষেধ মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ বুধবার এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি সংক্রামক রোগ আইনের অধীনে সংশ্লিষ্টদের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে পৃথক আদেশ জারি করবেন বলে জানা গেছে।

সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, কঠোর বিধি-নিষেধ না মানলে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে হওয়া উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে কঠোর লকডাউনের মধ্যে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টশিল্প, কলকারখানা ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট খোলা রাখার বিষয়টিও আলোচনা হয়েছিল। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের দু-একজন বলেছেন, সরকার চাইছে কঠোর লকডাউন। কিন্তু ফ্লাইট চালু রেখে এবং গার্মেন্ট খোলা রাখলে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে যথেষ্ট কড়াকড়ির সঙ্গে লকডাউন নিশ্চিত করা যাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর