ভিন্ন উপায়ে তৃণমূল নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি

আন্দোলন জমাতে এখন ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে স্বৈরাচার পতনের পর প্রথম সরকার গঠন করা দল বিএনপি। বড় ধরণের কর্মসূচীতে নামার আগে তারা তৃণমূলকে শক্তভাবে প্রস্তুত করতে চায়। তাই জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নানা সমস্যা নিয়ে মাঠে নামার জন্য সব জেলার নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দিয়েছে দলটি।

হাই কমান্ডের নির্দেশনায় বলা হয়, বিদ্যুত-পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, সিটি করপোরেশনের ট্যাক্স বাড়ানো, স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক দুর্নীতি, স্থানীয় অবকাঠামো নির্মাণে অনিয়মসহ জনকল্যাণের নানা ইস্যু নিয়ে কর্মসূচী করবে। ইতোমধ্যে জেলা থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিসহ নানা কর্মসূচিও শুরু করেছে দলটি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশের শর্তে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কর্মসূচি পালনের কথা বলা হয়েছে। স্থায়ী কমিটি মনে করে করোনা পরিস্থিতিকে এখন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে সরকার। দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি করোনার অজুহাতে বছরের পর বছর কর্মসূচি গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নানা অনিয়ম, অত্যাচার, দুর্নীতিসহ সব অন্যায়ের প্রতিবাদে বিএনপির কাছেই কর্মসূচি প্রত্যাশা করে জনগণ। তাদের প্রত্যাশা পূরণে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেন, স্থানীয়ভাবে কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ এরই অংশ।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতরের চলতি দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, স্থানীয়ভাবে যে দাবি-দাওয়া আছে তা বের করার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিকে বলা হয়েছে। তারা এগুলো নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। পানি-বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে, করোনার টিকা আনা যাচ্ছে না-এসব ইস্যুতে কর্মসূচি থাকবে।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, এবার তাদের ঘোষিত সকল কর্মসূচি হবে জনসম্পৃক্ত। সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি নিয়ে মাঠে থাকবে নেতাকর্মীরা। তাতে যদি কেউ বাঁধা দেয় তাহলে স্থানীয় পর্যায়ে আরও ক্ষোভের সঞ্চার হবে। চাপ সৃষতি করা যাবে সরকারের উপর।

রোববার (২৭ জুন) রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, নাটোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, নড়াইল জেলা ও খুলনা মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সেখানেও জেলাগুলোতে সরকারের ব্যর্থতায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

এদিকে খুব দ্রুতই বৃক্ষরোপন কর্মসূচীকে উপলক্ষ নিয়ে কেন্দ্রের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত ৮০টি টিম জেলাগুলো সফর করবে।

এ বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এক প্রস্তাবে নেতাকর্মীরা জানান, এ কর্মসূচিকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতার বিভিন্ন জেলায় সফর করবেন। সেখানে সবাইকে গাছ লাগানোর উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে দলটি প্রমাণ করবে, বিএনপি শুধু ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতি করে না। স্থানীয় ও সামাজিক ইস্যু নিয়েও কাজ করে।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর