৩য় দফায় বাংলাদেশে ভয়াবহ রুপ নিয়েছে করোনাভাইরাস । আর এই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রশাসন দফায় দফায় লকডাউন সহ পরিচালনা করছে প্রতিরোধমূলক কর্যক্রম।
তবে বার বার লকডাউন থেকে কঠোর লকডাউন দিলেও এক শ্রেনী পেশার মানুষের মধ্যে দেখা যায় চরম উদাসীনতা। এই নিম্ন শ্রেনী পেশার মানুষেরা দিন আনে দিন খায় যার ফলে তাদের বাধ্য হয়ে বাহিরে বের হতে হয় কিছু আয় উপার্যনের উদ্যেশ্যে। আর এর পেছনে রয়েছে আরেক অন্যতম কারন কিস্তি আদায়। যেটি বর্তমান সময়ে গরীবের মরার উপর যেন খাড়ার ঘা হয়ে দাড়িয়েছে।
যশোরের সদর উপজেলার কাজীপাড়ার ভ্যানচালক ছত্তার। দুটি সমিতি থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লোন করে মাস খানেক আগে কিনেছেন একটি ইঞ্জিন চালিত অটোরিকশা। যেটির চাকা ঘুরলেই তবে ভাত জোটে পেটে।
মাস যেতে না যেতেই করোনার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় বিধিনিষেধ চলমান থাকায় আগের মতো আর আয় রোজগার হয় না। ফলে কিস্তির টাকা গোছাতে গেলে ঘরে চাল কেনার পয়সা থাকে না।
ছত্তার বলেন, আমি লোন করে রিকশা কিনেছি। এখন লকডাউনের মধ্যে আয় নেই। তাহলে আমরা খাবো কি আর কিস্তি দিবো কি। সরকার আমাদের ভালোর জন্য লকডাউন দিয়েছে এটা স্বীকার করি। কিন্তু ঘরে বসে থাকলে তো কিস্তিয়ালারা মাফ করবে না। ঠিকই সপ্তাহ গেলে টিনের বেড়ায় এসে বাড়িধুড়ি করবে। হুমকি ধামকি দিবে জমি,ঘর বিক্রি করে দেবার। আমরা তো এই কিস্তির জালায় বাহিরে রিকশা নিয়ে বের হই। তাছাড়া আমাদের আর কোন উপায় থাকে না।
একইভাবে আরও ভুক্তভোগী নাছিমা,ফারিয়া,রোকেয়া,নিলিমা সহ অনেকে। সবারই অভিযোগের আঙুল কিস্তি আদায় করা এনজিও সমিতি গুলোর দিকে।
এদিকে কিস্তি আদায় করতে আসা এনজিও সমিতি কর্মীদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে বলেন, আমাদের অফিস থেকে তেমন কোন নির্দেশনা দেয়নি। তাছাড়া সব এনজিও কিস্তি আদায় করছে।
কয়েকটি সমিতির কতৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা বার্তা বাজার কে জানায়, আমাদের কর্মীরা গ্রাহকদের শুধু খোজ খবর নিতে যায়। এছারা আমরা তাদের কিস্তি আদায়ের জন্য বলিনি।
এদিকে এবিষয়ে যশোর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান বার্তা বাজার কে বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক লকডাউন চলাকালীন সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তি আদায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরেও যদি কোন এনজিও বা কর্মী কিস্তি আদায় করতে যায় অথবা কোন গ্রাহককে হুমকি ধামকি দেয় আমরা সে ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে যশোরের উপজেলা গুলোর গ্রামে গ্রামে কিস্তি আদায় করছে জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন, আশা ব্রাঞ্চ, গ্রামীন ব্যাংক, সহ প্রায় সবকয়টি এনজিও ও সমিতি। তবে এ ব্যাাপরে আরও নজরদারি বাড়িয়ে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহন করার দাবী ভুক্তভোগী সাধারন মানুষের।
এ্যান্টনি দাস অপু/বার্তা বাজার/টি