বাস করার আগেই বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ভেঙে পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। টানা দু’দিনের বর্ষেণের ফলেই এ ঘরগুলোর মাটি সরে খালে চলে গেছে এতেই ভেঙে পড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো।
এলাকাবাসী জানায়, কোয়েরখালি এলাকায় একটি খালের তীর ঘেসে তড়িঘড়ি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের সেই ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণের আগে ওই খাল থেকে মাটি তুলে সেখানে দেয়া হয়েছিল। মাটি অনেকটা আলগা থাকায় এবং ঘরের নীচে গর্ত হওয়ায় গত দু’দিনের প্রবল বর্ষণে তা ধসে পড়েছে এবং ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়েছে। এতে আতংক দেখা দিয়েছে ওই ঘরে ওঠা অসহায় মানুষ গুলোর।
মঙ্গলবার (২৯ জুন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, উপজেলার খানপুর বুড়িগাড়ি এলাকায় নির্মিত এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর পিছনের মাটি খালে ধসে পড়ে এ ঘটনা ঘটে।
এতে সুবিধাভোগী আব্দুল কাদের, হায়দার আলী, বাদশা মিয়া, নদীয়ার চাঁদ, শেফালী বেগম, মোকছেদ আলী, গোলাপী বেগম ও সোনা মিয়ার ঘরগুলো ভেঙে পড়েছে। খালটিতে বাঁশের পাইলিং করে প্রকল্পের বাড়িগুলো রক্ষার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু বারবার মাটি ধসে খালে পড়ায় ভেঙে পড়া ঘরগুলো পুনর্নির্মাণকাজ করতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাকি ঘরগুলোও যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। ভাঙন আতঙ্কে তারা দিনযাপন করছেন।

এসময় ভূক্তভোগীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, শুধু ঘর ভেঙ্গে পড়া নয়। কোনো ঘরে দেয়া হয়নি বিদুৎ সংযোগ। এছাড়া সঙ্কট রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২টি পরিবারের জন্য মাত্র একটি হস্তচালিত নলকূপ চালু রয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় একেবারে অপ্রতুল।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর উপহারে ঘর প্রাপ্ত শেফালী বেগম বলেন, নতুন ঘর পেয়ে এখনো ঘরে উঠতেই পারলাম না।তার আগেই বাড়ির একটি ঘর ছাড়া বাকি ঘরগুলো ভেঙে গিয়েছে। বাকি ঘরটির দেয়ালও ফাটল ধরেছে যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। তাই এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না।
খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘরের পিছনের মাটি যাতে আর ধসে না পড়ে সেজন্য বাঁশের পাইলিং দেয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামছুন্নাহার শিউলী বেগমের বক্তব্য জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে জানা যায় তিনি অসুস্থ (করোনায় আক্রান্ত)। তাই তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ঘর ধসে পড়ার খবর পেয়ে সাথে সাথেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোছা. সাবরিনা শারমিন। এছাড়া বগুড়া জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের দু’ পাশের ঘরগুলো ঠিক আছে। মাঝখানের ৪-৫টা ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে জানানো হয়েছে।
রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম