পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত সাংবাদিক তুহিন

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ কর্তৃক হয়রানির শিকার হয়েছেন অনলাইন গণমাধ্যম সারাবাংলা ডটনেটের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট এমদাদুল হক তুহিন। মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী রেলক্রসিং এলাকায় পুলিশ চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, মোটরবাইকে দুজন যাত্রী থাকলে চেকপোস্টে থামিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছিল, আবার কোনোকোনো মোটরবাইক চেকপোস্টের ফাঁক গলিয়ে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পার হওয়ার সময় তেজগাঁও থানার কনস্টেবল আনোয়ার বাইকের যাত্রীদের লাঠি দিয়ে আঘাত করছিলেন, যাত্রীদের উপর অমানবিক এই নির্যাতনের ছবি তোলায় সাংবাদিক তুহিনের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে হয়রানি করা হয়।

তুহিন জানান, মহাখালী রেলগেটে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল আটকাচ্ছিল। দু’জন যাত্রী থাকলেই বাইকগুলোকে থামানো হচ্ছিল। কোন কোন বাইক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় আনোয়ার নামের এক পুলিশ সদস্য লাঠি দিয়ে অমানবিকভাবে আঘাত করছিলেন। এতে কোন কোন যাত্রীকে পড়ে যেতেও দেখা গেছে। স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিক হিসাবে হাতে থাকা মুঠোফোন দিয়ে সেই ছবি তুলতে থাকি। এতে আনোয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে। আর পেছন দিক থেকে আমার কালার চেপে ধরে তেজগাঁও থানার উপ-পরির্দশক শরিফুল ইসলাম।

তিনি আরও জানান, সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর শরিফুল কলার থেকে সঙ্গে সঙ্গে হাত নামিয়ে ফেলেন। কিন্তু আনোয়ার আমার উপর চড়াও হন। তার ভাই যমুনা টিভিতে কাজ করে এমন হুমকি দিয়ে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে জোর করে আমার হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। এতে আমার হাতে ব্যাথা পাই ও মোবাইলের স্ক্রিন ফেটে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট আমাকে আটকিয়ে রাখা হয়। পরে ঘটনাস্থলে তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহ আলম এসে উপস্থিত হলে ঘটনা শুনে আমার মোবাইল ফেরত দেন। পুলিশি এই আচরণে আমি মর্মাহত।

তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহ আলম বলেন, একজন পুলিশ সদস্যের দায় সবার উপর বর্তায় না। তিনি অন্যায় করে থাকলে থানায় অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।

এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক এমদাদুল হক তুহিনকে হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ রিপোটার্স ফোরাম (জিএমআরএফ)। সংগঠনটির তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক তুহিনকে হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে সংগঠনটি।

জিএমআরএফ’র সভাপতি কবির আহমেদ খান ও সাধারণ সম্পাদক রুকনুজ্জামান অঞ্জনের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘লকডাউন চলাকালীন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গণমাধ্যম কর্মীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের সাথে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করবে, যাতে কোনভাবেই কোন অনাকাঙ্খিত আচরণের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না হয়।’

পুলিশ কর্তৃক সাংবাদিক তুহিনকে হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ)। সংগঠনটি এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করেছেন।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর