ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি দোকান বরাদ্দে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি দোকান বরাদ্দে অর্থ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। জেলা সদরের ভুল্লী বাজার এলাকায় দোকান বরাদ্দ নিয়ে এ অভিযোগ তুলেন তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ভুল্লী বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। গেল মার্চে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) পক্ষ থেকে একটি নোটিশ দিয়ে ৫১টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। পরে সেখানে নতুন করে দোকান বরাদ্দের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। আহ্বানে হাটের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনীতিবিদরা আবেদন করেন। সেই প্রেক্ষিতে গেল বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) এসিল্যান্ড উপস্থিত থেকে নতুন করে ৮৭ জনকে দোকান বরাদ্দ দেন।

বাজারের ব্যবসায়ী সাকির উদ্দিন, রাকিব, হেলাল ,আব্দুল মজিদ, মুকুলসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বাজারটিতে দোকান ছিলো না এমন অনেকেই দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে। এছাড়া দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি করায় দোকান খুবই ছোট করা হয়েছে। এই অর্থ লেনদেনের সাথে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান যোগসাজস করে দোকান প্রতি ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন বিভিন্ন জনের কাছে। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা দোকান বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ভুল্লীহাট বণিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি আসলাম পারভেজ জানান, এক/ এগারোর সময় ভুল্লী বাজার উচ্ছেদ করা হয়েছিলো। সে সময়ের জেলা প্রশাসক সাফায়েত হোসেন লটারির মাধ্যমে এই ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ দেন। কিন্তু এতো বছর পর দোকানগুলোকে অবৈধ বলে উচ্ছেদ করা হয়।

এ বিষয়ে চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক শাওন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষে নতুন করে দোকানগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন ট্রেড লাইসেন্স দিবেন চেয়ারম্যান। আর যেহেতু চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তিনিই অর্থ লেনদেন করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। আমরা চাই বিষয়টি তদন্ত করে দোকানগুলো সুষ্ঠু বন্টন করা হোক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর-এ-আলম ছিদ্দিকির সাথে যোগাযোগ করা হলে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুল হাসান সোহাগ জানান, দোকান বরাদ্দের বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, চেয়ারম্যান দোকান বরাদ্দে টাকা নিয়েছে এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর