নীলফামারী কিশোরগঞ্জে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য বাঁশের বাউঙ্কা। কৃষিপণ্য পরিবহনসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে আছে বাউঙ্কা। একসময় যান্ত্রিক বিহীন যুগে পণ্য পরিবহনে বাউঙ্কার বিকল্প কোন চিন্তাও করা যেত না। কিন্তু এখন দিন দিন বাউঙ্কার প্রয়োজন ফুরিয়ে আসছে।
এইতো গেল কয়েক বছর আগের কথা, নিম্ন আয়ের মানুষ রুটি রুজির সন্ধানে শহর থেকে গ্রাম অঞ্চলে বাউঙ্কার দু’পাশে চার কোণা দঁড়ি ঝুলিয়ে ফেরি করে হরেক রকমের পণ্য বিক্রি করতেন। তখন হাতের তৈরি নজর কাড়া বাউঙ্কায় ভিন্ন শহরের ফেরিওয়ালাদের রঙ্গ-রসিকতার হাঁকডাকে মুখর ছিল শহর থেকে গ্রামীণ জনপদ। বাসা- বাড়ির পথ ধরে ছন্দ আর রসিকতায় গৃহের লোকজনকে আওয়াজ দিত, হাড়ি পাতিল নেবেন, হাড়ি পাতিল, দরজা- জানালায় রং করাবেন রং, মুড়ি মুরকি, আয়না-চিরুনী চুড়ি-ফাইলাসহ আরও কত কি।
বিশেষ করে গ্রামের নারী ও ছোট শোনামণিরা হুমড়ি পরে তাদের পছন্দের জিনিস কিনত। আর কৃষি শ্রমিকরাও দূরের ফসলের মাঠ থেকে বাউঙ্কা কাঁধে করে ফসল কৃষকের ঘরে তুলে দিত। আর হাট-বাজারে সওদা পাতিও আনা নেয়া হত এই বাউঙ্কায়। কিন্তু কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বাউঙ্কা, হারিয়ে যাচ্ছে রম্য রসিকতার ফেরিওয়ালারাও।
উন্নত সভ্যতার গ্যাড়াকলে আর যান্ত্রিকতার আগ্রাসনে বাউঙ্কার স্থান দখল করেছে ভ্রাম্যমান দুই চাকার বাইসাইকেল, অটো চালিত ভ্যান। তেমনি উপজেলার চাঁদখানা ইউপি’র নগরবন গ্রামের যোগী দীনেশ চন্দ্র (৬৫) বিলুপ্তপ্রায় পূর্ব পুরুষের রেখে যাওয়া শামুক-ঝিনুকের চুন ব্যবসায় তেমন ভাল কিছু করতে না পারলেও আজও তার কাছে যত্নে আছে বাউঙ্কা। আর এ বাউঙ্কায় চুন বিক্রি করে চলে তার জীবন সংসার।
তিনি জানান, বাউঙ্কা এই অঞ্চলের ঐতিহ্য। তাই উন্নত জীবন যাত্রায় বিকল্প কোন বাহনে কালের বিবর্তনে বাউঙ্কা হারিয়ে যাচ্ছে।
তারিকুল ইসলাম সোহাগ/বার্তা বাজার/এফএইচপি