‘দেশের প্রতিটি থানায় আগে টাকা, পরে কথা’

সর্বত্র ঘুষে ছেয়ে গেছে। প্রশাসনের সর্বত্র ঘুষ আর দুর্নীতিতে ভরে গেছে বলে উল্লেখ করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী।

তিনি বলেন, সরকারি দফতরে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। ভূমি, বন ও পুলিশ থেকে শুরু করে প্রতিটি দফতরে কাজ করতে গেলে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ ছাড়া কোনো থানায় মামলা করা যায় না। আগে টাকা দিতে হয়, পরে কথা। এসময় তিনি বলেন, ঘুষ ছাড়া যিনি কাজ করতে পারেন তিনি ভাগ্যবান।

সোমবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটা নিয়ে তিনি বলন, ই সার্জিকাল মাস্কের মূল্য কোনোটি চার টাকা, আবার কোনোটি একটু বেশি। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এগুলো কিনেছে সাড়ে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা করে। এই মাস্কগুলো প্রতিটি কিনতে সত্তর থেকে আশিগুণ টাকা লুটপাট করেছে।

তিনি আরো বলেন, এই মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে এমন দুর্নীতি করলে দেশ এগিয়ে নেয়া সম্ভব না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। আকাশে-বাতাসে বক্তৃতা দিয়ে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করা যাবে না। তার ধ্যানধারণা চিন্তার বিষয়টি মনে করতে হবে।’

রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি না হলে আরো অনেক দূর এগিয়ে যেত। দেশে এমন কোনো মন্ত্রণালয় বা ক্ষেত্র নেই যেখানে ঘুষ ছাড়া কাজ করা যায়। ভূমি অফিসে গেলে এসি ল্যান্ডকে ঘুস দেওয়া লাগবে। আরেক জায়গায় গেলে তহশিলদারকে ঘুস দেওয়া লাগবে। একটু বড় কাজ হলে ইউএনওকে (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) টাকা দেওয়া লাগবে। আরও বড় হলে ডিসি সাহেবকে টাকা দেওয়া ছাড়া হবে না। থানায় তো দারোগা বাবুরা। আপনে মার খাবেন। আপনার লোক আহত হবে, নিহত হবে। এরপরও এফআইআর করতে গেলে আগে টাকা তারপর কথা। ব্রিটিশ আমলেও সবাই ঘুষ খেত না। পাকিস্তান আমলেও সবাই খেত না। এখন একেবারে প্রত্যেকেই। ওখান (থানা) থেকে শুরু করে সার্কেল এএসপি, অ্যাডিশনাল এসপি, এসপি-আর কতদূর উপরে আছে জানি না। এর উপরে বললে লাভ কী?’

তিনি বলেন, আজ যারা মন্ত্রী তাদের কাজ কি? সবাই গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাত তোলেন। প্রধানমন্ত্রী কি মাস্ক কিনবেন? তিনি থানায়, জেলায় গিয়ে ওসি এসপির ঘুষ থামাবেন? তিনি কি ভূমি অফিসের তহশিলদারের ঘুস ঠেকাবেন?
হোয়ার আর দ্য মিনিস্টারস? হোয়াট ইজ হিজ ডিউটি? তারা রুলস অব বিজনেস পড়েন কি? রাষ্ট্রপতি কি বিভাজন করে তাদের ক্ষমতা দেননি? অনেক ভালো মন্ত্রী এখানে রয়েছেন। তাদের সালাম করি।

এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশে বলেন, ‘পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা না গেলে দেশের অর্থনীতি সুন্দর করা যাবে না। ঘুস-দুর্নীতি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। অনেক দয়া দেখানো হয়েছে। আর দয়া বা ক্ষমা নয়।’

রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘২৫ কোটি ডোজ করোনার টিকা আগামী ৬ মাসের মধ্যে আনতে হবে। এজন্য যত টাকা দরকার আমরা দিতে রাজি। দরকার হলে মেগা প্রজেক্ট কমাতে হবে। ভ্যাকসিনের জন্য বরাদ্দ দিয়ে ভ্যাকসিন আনতে হবে।

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর