রাতের আধারে সরকারি গাছ কর্তন: অভিযুক্তদের ছেড়ে দিলেন চেয়ারম্যান

মাদারীপুরের রাজৈরে সরকারি গাছ কেটে নিয়ে পালানোর সময় হাতেনাতে আটককৃত তিন চোরকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের লক্ষের বাজার এলাকায়। তবে চেয়ারম্যানের দাবী পুলিশ না নেওয়ায় চোরগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠলে বিষয়টি সারা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সোমবার (২৮ জুন) গণমাধ্যম কর্মীদের নজরে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত (২৬ জুন) শনিবার গভীর রাতে লক্ষের বাজার এলাকার রাস্তার পাশ থেকে ৭/৮ জন লোক একটি সরকারি মেহগনি গাছ কেটে ভ্যানে করে নিয়ে পালাচ্ছিল। এসময় স্থানীয়রা চারিদিক থেকে তাদের ঘেরাও করে তিনজনকে ধরতে সক্ষম হয়। বাকিরা টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

পরে রোববার (২৭ জুন) ভোরে রাজৈর উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেনকে বিষয়টি জানানো হয়। এবং তিনি চোরগুলোকে ইউনিয়ন পরিষদে নেয়ার নির্দেশ দিলে চৌকিদাররা নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে কোন আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই অদৃশ্য কারনে ওইদিনই বেলা ১২ টার দিকে চোরেদের ছেড়ে দেন চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় জনমণে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে, স্থানীয় বাজারগুলোতে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

আটক থেকে চেয়ারম্যানের মুক্ত করা চোরচক্রের সদস্যরা হলো- উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের দিঘলিয়া গ্রামের ইসহাক বাঙ্গীর ছেলে নূর মোহাম্মাদ বাঙ্গী (৪৫), একই ইউনিয়নের মাচকান্দি গ্রামের সিরাজ মোল্লার ছেলে হারুন মোল্লা (৩০) ও হারুনের চাচাতো ভাই আরিফ মোল্লা (২৫)।

পাইকপাড়ার দফাদার বিপ্লব জানান, রবিবার (২৭ জুন) ভোরে ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার লুৎফর মোল্লা আমাকে চোর আটক করার বিষয়টি জানায়। পরে আমিসহ ৩/৪ জন চৌকিদার নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং চেয়ারম্যানের কথা মতো পাইকপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসি। পরে কি দইদরবার করছে তা আমি জানিনা। কিন্তু আটকে রাখার পর প্রায় ১২ টার দিকে চেয়ারম্যান আমাকে বললো ওদের ছেড়ে দে। পরে ছেড়ে দিছি। তবে গাছের টুকরোগুলো ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রাখা হয়েছে।

পাইকপাড়ার চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন জানান, তিনজন সরকারি গাছ চোর ধরে স্থানীয়রা। তখন আমি এলাকায় ছিলাম না। বিষয়টি আমি পুলিশকে জানিয়েছি কিন্তু তারা খবর পেয়েও আসেনি। পরে প্রয়োজন হলে বা চোরদের ডাকলে তারা আসবে এ শর্তে রবিবার দুপুরে চোরদের নিয়ে গেছে চোরের এলাকার লোকজন।

এ ব্যাপারে রাজৈর থানার ওসি মো. শেখ সাদিক জানান, চেয়ারম্যান আমাকে এ বিষয়ে কিছু বলেনি। আমার বরাত দিতে পারে। কিন্তু আমি কিছু জানিনা।

আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর