রাজধানীর মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ৭ জনের মধ্যে চার জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই চারজনের ৩ জন মারা যান শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ও একজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
রোববার (২৭ জুন) দুর্ঘটনার পর সোমবার নিহতদের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করে। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে আশেপাশের পরিবেশ।
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম স্বপন (৩৫)। তিন সন্তান ও স্ত্রী মিনুকে নিয়ে মগবাজারের চেয়ারম্যান গলিতে তিনি থাকতেন। বিস্ফোরণের সময় বেসরকারি চাকরিজীবী স্বপন অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
অপর নিহতের নাম আবুল কাশেম মোল্লা (৪৫)। তিনি ঢাকায় চলাচল করা আজমেরী পরিবহনের বাসচালক। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা আবুল কাশেম মোল্লা প্রায় ২৫ বছর ধরে পরিবহন খাতের সাথে যুক্ত। গাজীপুরের সালনায় মেয়ে মিম (৫) ও স্ত্রী সোহাগীকে নিয়ে বসবাস তার।
বছর দেড়েক আগে ধার-দেনা করে একটি বাস কিনে আজমেরী কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে চালাতেন। ঘটনার সময় তিনি নিজে সেই বাসটি চালাচ্ছিলেন।
নিহত তৃতীয় ব্যক্তির নাম মোস্তাফিজুর রহমান। ময়মনসিংহের ভালুকার এই যুবক শনিরআখড়া এলাকায় বসবাস করে বেসরকারি রেডিওসহ প্রাইভেট টিভির ইসলামিক অনুষ্ঠান করতেন তিনি। তিনিও ডাক্তার দেখিয়ে বাসে করে বাসায় ফিরছিলেন।
এছাড়া বিস্ফোরণের সময় শর্মা হাউজ নামে একটি রেস্টুরেন্টে ৯ মাস বয়সী মেয়ে সুবহানাকে নিয়ে খেতে এসে মারা যান জান্নাত (২৩) নামে এক নারী।
এদিকে মগবাজারের বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনাস্থলে মারা যান রুহুল আমিন নোমান (২৬)। তিনি মগবাজার আড়ং শো রুমে সিনিয়র সেলসম্যান হিসাবে চাকরি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কাঁঠালি গ্রাম। তার বাবার নাম খয়বর মন্ডল। স্ত্রী ও দুই বছরের শিশু সন্তান নাবিলাকে নিয়ে শান্তিনগরে থাকতেন।
ডিএমপির রমান বিভাগের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত আমরা ৬ জনের মরদেহ পেয়েছি। এদের মধ্যে জান্নাত ও শিশু কন্যাকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ জনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা পাঠানো হয়েছে।
বার্তা বাজার/এসজে