“দেড় হাজার” লোকের সরকারি ভাতার টাকা উধাও

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ৫ ইউনিয়নে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত অসংখ্য অসহায় মানুষের ভাতার টাকা না উধাও হওয়ার ঘটনার অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার (২৮ জুন) সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহষ্পতিবার (২৪জুন) ভাতার টাকা না পাওয়ার বিষয়ে অসহায় ভাতাভোগীদের অভিযোগে সংবাদপ্রকাশ হয় গনমাধ্যমে। তারই প্রেক্ষিতে দেবহাটা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার অধীর কুমার গাইনের দায়িত্বহীনতার তথ্য তুলে ধরা হলে নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, সকল ভাতাভোগীদের তালিকা প্রণয়ন করে মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানীকে সরবরাহসহ সুবিধা ভোগীর টাকা প্রাপ্তি পর্যন্ত যাবতীয় বিষয় দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের। কিন্তু সময় স্বল্পতা, দাপ্তরিক ব্যস্ততা বা অফিসে দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে হয়তো তিনি ভাতা ভোগীদের এসব সমস্যা ঠিকমতো তদারকি করতে পারেননি। এছাড়া এ প্রক্রিয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানী নগদ’র লোকজনেরও ভুল ছিল। যার ফলশ্রম্নতিতে হয়তো ভাতাভোগীদের নামের তালিকার সাথে মোবাইল নম্বর ভুল হয়েছে এবং ভাতাভোগীদের টাকা গুলো বিভিন্ন জেলার মোবাইল ব্যবহার কারীদের কাছে চলে গেছে।

তিনি আরোও বলেন, পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর ইতোমধ্যেই ঘটনার অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে প্রায় দেড় হাজার ভাতা ভোগীর টাকা খোয়া যাওয়ার তথ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, টাকা না পাওয়ার একাধিক কারন থাকতে পারে। তবে হয়তো জনপ্রতিনিধিরা ভুক্তভোগীদের সংখ্যার বিষয়ে গণমাধ্যমকে একটু বাড়িয়ে বলেছেন। দেবহাটার পাঁচ ইউনিয়নে মোবাইল নম্বরের ভুলের কারনে টাকা খোয়া যাওয়া ভুক্তভোগীর সংখ্যা দেড় হাজারের কম হবে বলেও জানান তিনি।

আরো বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর আমরা এ সংক্রান্ত বিষয়ে উর্দ্ধত্তন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিলাম। যেসব ভাতাভোগীর টাকা ভুল করে অন্য মোবাইলে চলে গেছে তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য সঠিক তথ্য উপাত্ত দিয়ে শীঘ্রই থানায় জিডি করার জন্য আমাদের পাঠানো চিঠির প্রতিউত্তরে রোববার রাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদিও তা অনেক লম্বা সময়ের প্রক্রিয়া। তারপরও দ্রুততার সাথে ভুক্তভোগীদের জরুরী ভিত্তিতে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে টাকা না পাওয়া অসহায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীরা মাসের পর মাস ধরে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে ধরনা দিলেও তাদেরকে পাত্তা না দিয়ে বরং অসৌজন্য মুলোক আচরণ ও বিভিন্ন অজুহাত খাড়া করে অফিস থেকে বারবার ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। সমাজসেবা অফিসারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভাতা’র টাকা বঞ্চিত অসহায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীরা।

এব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, অসহায় ভাতা ভোগীদের টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারের এমন স্পর্শকাতর স্যোশাল সেফটিনেট প্রকল্পে দায়িত্বহীনতা বা নয়—ছয় হওয়ার প্রমান পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মীর খায়রুল আলম/ বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর