টেকনাফে ৩দিন ধরে নদীতে দুই হাতি, গাফেলতির কারণে মরার পথে
কক্সবাজারের টেকনাফ পাহাড় থেকে নেমে আসা হাতি দুটি ৩দিন অতিবাহিত হলেও বনে ফেরাতে পারেনি বন বিভাগ। হাতি দুটি শাহপরীর দ্বীপ নাফ নদীর কিনারায় খাদ্য অভাবে মারাত্বক দূর্বল হয়ে ঘোলার চর এলাকায় অবস্থান করছে। দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে যে কোন মূহুর্থে মারা যেতে পারে।
প্রত্যক্ষ দর্শীদের মতে, শুক্রবার ভোরে হাতি দুটি টেকনাফ নেটং পাহাড় থেকে নেমে পৌরসভার জালিয়াপাড়া এলাকায় নাফ নদীর প্যারাবনে দেখতে পায়। পরে বনবিভাগ ও এলিপ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা একদিন পর শনিবার সন্ধায় হাতি দুটিকে বনের অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। সেদিন রাতে হাতি দুটি ফের বন থেকে বাহির হয়ে নাফন্দীর প্যারাবনে নেমে আসে।
টেকনাফ সদর সিবিজি সভাপতি মাহমদুল্লাহ ‘বার্তা বাজার’কে জানান, রবিবার টেকনাফ থেকে অন্তত ১২ কিলোমিটার দক্ষিনে শাহপরীর দ্বীপ নাফ নদীর কিনারায় অবস্থান নেয়। রবিবার রাতে সিবিজি’র ২১ জনের একটি টিম হাতি দুটিকে সারা রাত পাহারা দিয়ে রেখেছে। ২১ জন সিবিজি সদস্য রাত দিন পরিশ্রম করার পরেও গত কাল থেকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোন রকম খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়নি। সবাই দূর্বল হয়ে কাজের শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।
এদিকে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা হাতির আক্রমনের ভিতিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবী হাতি গুলো দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে নাফ নদী সাঁতরিয়ে মিয়ানমার চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘোলার চরের কয়েক জন জেলে মুটোফোনে জানিয়েছেন, হাতি দুটি খাদ্যাভাবে ক্রমশ দূর্বল হয়ে গেছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত কাদার মধ্যে খুবই দূর্বল ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আরো দূর্বল হয়ে গেলে কোমরসম কাদা ও জোয়ারে পানি থেকে কূলে উঠানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আশিক আহমেদ ‘বার্তা বাজার’কে জানান, হাতি দুটিকে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর থেকে মেরিন ড্রাইভের দিকে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
খাঁন মাহমুদ আইউব/বার্তা বাজার/টি