আর কিছু দিন পরই বসছে কোরবানির পশুর হাট। নিয়ম অনুযায়ী, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে কোরবানির হাটে পশু কেনাবেচা শুরু করা হয়। হাটগুলোর অনুমোদন দেয় জেলা প্রশাসক।
তবে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার আগেই ইজারা ছাড়াই এসব পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে পৌর মেয়র আব্দুল হান্নান। এদিকে পৌর এলাকার ব্যস্ততম রাস্তার পাশে এ হাট লাগানো হলে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টির আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
পৌরসভার আলমপুর-সোনামুখী আঞ্চলিক সড়কের হেলিপ্যাড নামক স্থানের রাস্তার পাশেই এ হাট লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় গরুর হাট লাগানোর বিষয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
সোমবার (২৮ জুন) সকালে সরেজমিনে গেলে জানা যায়, গত তিনদিন ধরে ওই হাট লাগানোর মাইকিং করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। অল্প কিছু জায়গার উপর হাটের প্রস্তুতি নেয়া নিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি করোনা আতংক বেড়ে দিয়েছে।
এদিকে গরুর হাট লাগানোর বিষয়টি স্বীকার করে পৌর মেয়র আব্দুল হান্নান বলেন, পৌরসভার আয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে পশুর হাট লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদনও করা হয়েছে। তিনদিন ধরে মাইকিংও করেছি। তবে করোনা পরিস্থিতি ভালো না হলে হাট বন্ধ থাকবে।
কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার মুঠোফোনে বলেন, পশুর হাটের জন্য কোন আবেদন করেনি। হাটের মাইকিং শুনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় পুলিশকে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছিলেন। আমরা রিপোর্ট দিয়েছে।
অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, ওই স্থানে পশুর হাট বসালে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হবে। তাছাড়া করোনার পরিস্থিতি ভালো না। এ অবস্থায় দায়িত্বশীল পদে থেকে কি করে গরুর হাট লাগানোর চেষ্টা করছেন তিনি সেটা বোধগম্য নয়। বিষয়টি জানার পর ওই স্থানের পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক লিখিত ভাবে জানিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশ পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোবারক হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, অনুমোদন ছাড়া কোন পশুর হাট চলতে পারে না। বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।
এম এ মালেক/বার্তাবাজার/পি