আমলাদের হাতে পায়ে ধরে বাঁধ পাননি ৮ এমপি!
গতমাসে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোর বেশ কয়েকটি বাঁধ। তলিয়ে যাওয়া বাঁধগুলোর কারণে প্লাবিত হয়েছে জনপদ। তখন নির্বাচনী এলাকায় প্লাবিত মানুষদের দেখতে গিয়ে জনরোষে পড়েন খুলনা-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাবু।
এবার তার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আওয়ামী দলের এমপিরা তুলে ধরেন উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধ না নির্মাণ হওয়ার নেপথ্যের ঘটনা। অভিযোগের তীরে বিদ্ধ করেছেন আমলাদের।
রোববার (২৭ জুন) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে ‘টেকসই বাঁধ নির্মাণসহ উপকূলের জীবন-জীবিকা’ শীর্ষক সংসদ সদস্যদের এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। যৌথভাবে কনভেনশনটির আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন একশন ও লিডার্স এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন।
সংসদে বাঁধের দাবীতে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলানো এমপি এম এম শাহজাদা বলেন, সরকার উপকূলবাসীর জন্য বরাদ্দ দেয়, কিন্তু একজন এমপি হয়েও আমলাদেরকে হাতে–পায়ে ধরে কাজ করাতে হয়। আমলাদের কারণে বেড়িবাঁধ সমস্যা কাটছেই না, বরং দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা দুই বছরের জন্য একেকটি এলাকায় নিয়োগ পান। তারা তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করেন।
বাগেরহাট–৪ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল আলম মিলন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে উপকূলের মানুষ প্রতিনিয়ত বাস্তুহারা হচ্ছে। দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে জনজীবনে সংকট আরও বাড়ছে। করোনা পরিস্থিতি, সুপার সাইক্লোন আম্ফান ও ইয়াস-এর কারণে উপকূলে সুপেয় পানির দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। ৬০ এর দশকে করা বেড়িবাঁধ এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির মৌসুমে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটে উপকূলবাসীর।
সাতক্ষীরা–২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, জাতীয় সংসদের প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলবাসীর জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকা উচিৎ ছিলো। কিন্তু এবারের বাজেট উপকূলের মানুষকে হতাশ করেছে। উপকূলের জনগণকে সুরক্ষায় ‘উপকূল উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনের দাবি করেন তিনি।
বরিশালের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার মিরা বলেন, দরকার না থাকলেও ক্ষমতার কারণে মন্ত্রীরা তার নিজ এলাকায় প্রজেক্ট করেন। অথচ যে এলাকায় বাঁধ দরকার, সেখানকার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে খুলনা–১ এর সাংসদ আখতারুজ্জামান বাবু অবশ্য দোষ দেন চিংড়ি চাষীদের। তিনি বলেন, চিংড়ি মাছ চাষের কারণে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাছ চাষ বন্ধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা–১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, খুলনা–৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার। অনুষ্ঠানের শেষে ৭ দফা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সুন্দরবন উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।
বার্তা বাজার/এসজে