নৌকায় ভোট দেওয়ায় বাড়ি ছাড়া অর্ধ শতাধিক পরিবার

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নে গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের অর্ধ শতাধিক বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জীবনের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

ভাংচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্হদের মধ্যে আবুল কালাম দফাদার,সালাম দফাদার, শাহাদাত দফাদার, আসলাম মিয়া ও মাসুমের অভিযোগ, দেবীপুর গ্রামের ফারক দফাদারের পুত্র সজিব, মৃত হোসেন আলীর পুত্র এমাদুল,মোফাজ্জল হোসেনের পুত্র আমিনুল,আলমগিরের পুত্র সাইফুল,বেলায়েত হোসেনের পুত্র নয়ন,হাসান মিয়ার পুত্র মামুন, নূর ইসলামের পুত্র বাদশা প্রকাশ্যে দিনদুপুরে তান্ডব চালায়।এরা সবাই বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন।

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্হদের মধ্যে দেবীপুর গ্রামের মৃত আঃ রশীদ দফাদারের পুত্র মোঃ আবুল কালাম বাদী হয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ২০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে মঠবাড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।তার অভিযোগ,বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন আমাদের শুধু বাড়ি ঘর ছাড়া করেই ক্ষান্ত হয়নি।মোবাইলে এখন প্রতিনিয়ত খুন জখমেরও হুমকি দিচ্ছে।হুমকির ডকুমেন্ট মোবাইলে সংরক্ষিত আছে।

নৌকার প্রার্থী সোবাহান শরীফ বলেন,নির্বাচনোত্তর ফলাফল ঘোষনার সাথে সাথেই বিদ্রোহী প্রার্থীর লাঠিয়াল বাহিনী নৌকা প্রতীকের কর্মীদের শনাক্ত করে ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় হামলা,মারপিট ও বাড়িঘর ভাংচুর করে। বাড়িকে থাকা অনেক মা – বোন এমনকি বৃদ্ধ মহিলারাও তাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি। নৌকা প্রতীকের বহু কর্মী জীবনের ভয়ে বাড়িঘর ও এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেয়।এখনও তাদের দুর্বৃত্তায়ন অব্যাহত আছে।

মিরুখালী ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবু হানিফ খান বলেন,নৌকা প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হামলা ও তাদের বাড়িঘর ভাংচুর করার বিষয়টি আমার জানা নেই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস জানান,দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে দল সিদ্ধান্ত নিবে।কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী নৌকা প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্হা নেওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া থানার ওসি নূরুল ইসলাম বাদল বলেন, অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে মিরুখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব আব্দুস সোবাহান শরীফ এবং বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আবু হানিফ খান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।এতে বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর