শ্রমিকলীগ নেতার হত্যাকারীদের শাস্তির দাবীতে মহাসড়ক অবরোধ

মাদারীপুরের শিবচরে শ্রমিকলীগ নেতা আবু বকর ফকিরকে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। রোববার (২৭ জুন) দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের (এশিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে) পাঁচ্চর এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যাপী চলা মানববন্ধন শেষে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। এসময় কয়েকশ জনগণের উপস্থিতিতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

নিহত আবু বকর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের ডাইয়ারচর গ্রামের খালেক ফকিরের ছেলে। তিনি মাদবরেরচর ইউনিয়নের শ্রমিকলীগের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও নির্বাচনে একই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদ্য নির্বাচিত মেম্বার আজিজুল সরদারের সমর্থক ছিলেন তিনি।

মানববন্ধনে অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, নির্বাচনের আগেরদিন রাতে আবু বকরকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে ৪নং ওয়ার্ডের পরাজিত মেম্বার প্রার্থী ইউসুফ সরদার ও তার সমর্থকরা। সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই। এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকল দোষীদের যেন দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।

এসময় বক্তব্য রাখেন, মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ মাতুব্বর, মাদবরেরচর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাতুব্বর, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফারুক সরদার, শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, সদ্য নির্বাচিত ইউপি সদস্য আজিজুল সরদার প্রমুখ।

শিবচর থানার ওসি মিরাজ হোসেন বলেন, বিচারের দাবিতে আসা বিক্ষুব্ধরা প্রথমে মানববন্ধন করে। শেষে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গিয়ে তাদের আসামি ধরার ব্যাপারে আশ্বস্ত করলে তারা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুন রাতে শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ সভাপতি আবু বকরকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয় ৪নং ওয়ার্ডের প্রতিপক্ষ পরাজিত মেম্বার প্রার্থী ইউসুফ সরদার ও তার সমর্থকরা। পরে সতেররশি এলাকায় গেলে তাকে কুপিয়ে আহত করে। গুরুতর অবস্থায় আবু বকরকে প্রথমে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্থানীরা।

অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর আজগর আলী প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নির্বাচনের দিন গত ২১ জুন রাতে নিহতের ভাই কামাল ফকির বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি মামলা করেন। এতে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়। তবে সাতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রেফতার হয়নি কোন আসামী। এতে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা।

আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর