শুরু থেকে নেই প্রসূতি মহিলা সার্জন, এক যুগ ধরে অকেজো এক্সরে মেশিন

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুরু থেকে নেই প্রসূতি মহিলা সার্জন, এক যুগ ধরে অকেজো এক্সরে মেশিন। এছাড়াও নানা সমস্যায় জড়জড়িত এই হাসপাতালটি। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসে।কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে হতাশায় ফিরে যেতে হয় অনেককে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি বন্ধ রয়েছে প্রায় এক যুগ ধরে। কখনও কখনও চালু হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার অকেজো। এতে অতিরিক্ত ফি দিয়ে ডায়াগনিষ্টক সেন্টারে টেষ্ট করাতে হয় দরিদ্র রোগীদের। সময়মত ডাক্তারদের অনুপস্থিতি নিত্যদিনের ঘটনা।

সরেজমিনে সকাল ১০ টায় গিয়ে দেখা যায়, রোগীরা ডাক্তারের কক্ষের সামনে দাড়িয়ে আছেন কিন্তু ডাক্তারের কক্ষে তালা ঝুলছে। প্রায়ই এই ঘটনা দেখা যায়।

রোগীদের অভিযোগ ডাক্তাররা সরকারী সেবার চেয়ে প্রাইভেট চিকিৎসায় বেশী মনযোগী বলে সাধারণ ভুক্তভোগীরা জানায়। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নেই প্রসূতি মহিলা সার্জন। এতে গর্ভবতী দরিদ্র রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। সিজার সেবা না থাকায় কোন প্রাইভেট ক্লিনিকে ঝুকি নিয়ে অতিরিক্ত ফি দিয়ে সিজার করাতে হয় সাধারণ রোগীদের।

কখনও বা ময়মনসিংহ নিয়ে ব্যয়বহুল সিজার সেবা নিতে হয়। এতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কারনে রয়েছে দূর্ঘটনার আশংকা।নেই গাইনি ডাক্তার। এতে মহিলা রোগীরা সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। রয়েছে ডাক্তার সংকট। নতুন ডাক্তারদের ধোবাউড়ায় পাঠানো হলেও কিছুদিন যেতেই তারা অন্যত্র চলে যায়।

সারা বছরই ডাক্তার সংকটের মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে চলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারের দালালদের দৌরাত্বে দিশেহারা রোগীরা।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হাসান শাহিন জানান, এক্সরে মেশিনটি খুব শীগ্রই চালু করা হবে। পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে অন্যান্য সেবা ব্যহত হচ্ছে। ২০১৩ সালে ৩০ থেকে ৫০ শয্যা উন্নীত হলেও জনবল সংকটে হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে জোড়া তালি দিয়ে।

আনিসুর রহমান/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর