বড় বোনকে ধর্ষণের ঘটনা জেনে ফেলায় ছোট বোনকেও ধর্ষণ আ’লীগ নেতার
বিয়ের প্রলোভনে বড় বোনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ছোট বোনকেও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাবনা আটঘরিয়া উপজেলার দেবত্তর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু হামিদ মো. মোহাইম্মীন হোসেন চঞ্চলের বিরুদ্ধে। তিনি ওই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
এ ঘটনায় সম্প্রতি মৃত বড় বোনের ব্যক্তিগত ডায়েরি খুঁজে পাওয়ার পর ছোটবোন ও পরিবারের সদস্যরা চেয়ারম্যান চঞ্চলের বিচারে চেয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি করেছেন।
পরিবারের অভিযোগ, নিহতের ছোট বোনকে ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন ওই চেয়ারম্যান।
ভুক্তভোগীর বাবা মো. রিফাত উদ্দিন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ২০২১ সালে কোনও এক সময়ে বিয়ের কথা বলে পাবনা শহরে অজ্ঞাত বাড়িতে নিয়ে তার বড় মেয়েকে ধর্ষণ করেন। সেসময় বাড়িতে আসার পথে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পরলে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তখন প্রকৃত ঘটনা সামনে না আসায় শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়ার নামে চঞ্চল ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর বাড়িতে আসা যাওয়া শুরু করেন। পরিবারের একজন শুভাকাঙ্ক্ষীর মতো আচরণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তার নজর পড়ে ওই পরিবারেরই আদুরীর ছোটবোন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীর দিকে। এক পর্যায়ে সে ভুক্তভোগীকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়। এরপর কৌশলে তাকেও ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান। ধারণ করা হয় ভিডিও।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে ওই ছাত্রীকে নিজের ২য় স্ত্রী দাবি করেছেন চেয়ারম্যান। পারিবারিক কলহের কারণে সম্প্রতি তার বিবাহিত স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে ওই মেয়েকে ব্যবহার করছে বলে দাবি অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের।
পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আক্তার বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বার্তাবাজার/পি