বার্তাবাজারে সংবাদ প্রকাশ: সংস্কার হচ্ছে পাকুন্দিয়ার সেই ব্রিজ
কিশোরগঞ্জের ‘পাকুন্দিয়ায় লাখ টাকার ব্রিজ কাজে আসছে না কারও’ এই শিরোনামে গত বছরের ৮ মে (শুক্রবার) বার্তা বাজারে ভিডিওসহ সংবাদ প্রকাশের পর ও ব্রিজ নির্মাণের চার বছর পর সংযোগ সড়ক নির্মাণ হচ্ছে, এতে করে চার বছর পর ব্রিজটি সচল হতে যাচ্ছে।
উপজেলার নারান্দী ইউনিয়ন ঈদগা মাঠ সংলগ্ন পাটুয়াভাঙ্গা এবং নারান্দী ইউনিয়নে মধ্যবর্তী সিংগুয়া নদী উপর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১১ লাখ ৩ হাজার ৫৮৯ টাকায় ১৬ মিটার দৈর্ঘের এ ব্রিজ তৈরি করা হলেও সরকারি রেকর্ডে রাস্তা না থাকার কারণে অসম্পূর্ণ ছিল ব্রিজটি।
ব্রিজের দুই পাশের কৃষকরা রাস্তা নির্মাণে জমি দিতে অনীহা প্রকাশ করায় এতদিন রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি তাই জনগণের কোন কাজে আসছিলনা ব্রিজটি। রাস্তা তৈরি না করেই ব্রিজটি নির্মাণ করায় এক পায়ে দাঁড়িয়ে ছিল দীর্ঘ ৪ বছর। ব্রিজের দুই দিকে নদী একদিকে ডোবা এবং অন্যদিকে নিচু ফসলি জমি, ছিলনা কোন রাস্তা, মাটি ভরাট না করায় ব্রিজে উঠার মতো কোন পরিস্থিতি ছিলনা।
সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কৃষকদেরকে বুঝিয়ে রাস্তা নির্মাণে জমি দিতে রাজি করান। এর ফলে ৩৫০ মিটার নতুন গ্রামীন রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। এখন দীর্ঘ চার বছর পর ব্রিজটি চলাচলে ব্যবহার করা যাবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় নারান্দী চরপাড়া ঈদগাহের পাশ থেকে পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন আউলিয়া পাড়া গ্রাম পর্যন্ত ৩৫০ মিটার গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজ প্রায় শেষ। কিছুদিনের মধ্যে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী হবে। এর ফলে ঐ ব্রিজটি সচল হবে।
স্থানীয়রা জানান, অপরিকল্পিত ভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল কয়েক বছর আগে, সরকারি টাকা অপচয় হয়েছিল, ব্রিজটির দুই পাশে রাস্তা না থাকায় কোনো কাজে আসছিলনা ব্রিজটি, দুইপাশের জমির মালিক তাদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা দিতে অনীহা দেখান। তাই রাস্তাটি সোজা না করে বাঁকা করতে হয়। রাস্তাটি সোজা থাকলে আরো ভাল হত। ব্রিজের দুপাশে দেরিতে রাস্তা হলেও এখন কাজে লাগবে লাখ টাকার ব্রিজটি, কিছুটা লাঘব হবে দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের কষ্ট।
নারান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, দুইগ্রামের সংযোগস্থল ও দুই এলাকার ঈদগাহের পাশে এই ব্রিজটি। দুই ইউনিয়নের লোকজনের যাতায়াতের কথা চিন্তা করে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ব্রিজ সংলগ্ন জমির মালিকদের তাদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা দিতে অনীহা ছিল তাই এত দিন রাস্তা নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এখন উপজেলা প্রশাসন ও দুই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কথা বলার পরে জমি দিতে রাজি হয়েছে জমির মালিকরা, তাই রাস্তাটি নির্মাণ হচ্ছে, এখন দুই ইউনিয়নে যাতায়াত আরো সহজ হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) রওশন করিম বলেন, আমি যোগদানের আগে এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। রাস্তা না থাকায় দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল। বার্তা বাজারের কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি হুমায়ুন কবিরের মাধ্যমে প্রথমে জেনেছিলাম, তারপর ব্রিজটি সচলের উদ্যোগ নেই। চলতি অর্থবছরে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় নতুন গ্রামীণ রাস্তাটি নির্মাণ হচ্ছে, এখন শুধু মাটি সমান করা হচ্ছে। দেরিতে হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই ব্রিজটি সচল হবে। এ উপজেলায় এমন আরো কয়েকটি ব্রিজ আছে, সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী করতে কাজ চলছে।
হুমায়ুন কবির/বার্তা বাজার/এফএইচপি