সাতক্ষীরার কামলনগর কবরস্থানে জায়গা খালি নেই। প্রতিদিন কাউকে না কাউকে দাফন করা হচ্ছে এই কবরস্থানে। কখনওবা করোনায় আক্রান্ত মরদেহ। কখনও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া মরদেহ আবার কখনো স্বাভাবিক মৃত্যুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হচ্ছে এখানে।
স্থানীয়রা জানান, মুন্সি আব্দুর রব সরদার নামের এক মহান ব্যক্তি ৭০ শতক জমি দান করেন কবরস্থান নির্মাণের জন্য। দেড়শত বছরের কবরস্থানটিতে হাজারো মানুষের দাফন হয়েছে। কিন্তু কবরস্থানটি সম্প্রসারণ না হওয়ায় বর্তমানে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে সম্প্রতি কবর দেওয়া স্থানে নতুন কবর খুড়লেই বেরিয়ে আসছে অক্ষত মরদেহ। এতে করে কবরস্থানটি সম্প্রসারণ করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
এই কবরস্থানের কবর খোঁড়ার কাজে নিয়োজিত রেজাউল ইসলাম ও ওয়াজেদ আলী জানান, ১৫-২০ বছর ধরে আমরা এখানে কবর খোঁড়ার কাজ করছি। কিন্তু সম্প্রতি কবর খুড়তে কোদাল মারলেই বেরিয়ে আসছে তাজা মরদেহ। আরো জানান, করোনার আগে সপ্তাহে দু-একটি, মাসে ১০-১২টি এবং বছরে এক-দেড়শ মরদেহ দাফন করা হতো। গত একমাসে প্রায় ৭০-৮০টি মরদেহ দাফন হয়েছে।
কামালনগর কবরস্থান পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ডা: আবুল কালাম বাবলা জানান, করোনা পরিস্থিতি আসার পর থেকে প্রতিদিন কোন না কোন ব্যক্তিকে দাফন করা হচ্ছে কামলালনগর কবরস্থানে। এতে জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। গত ৯ জুন ২০২১ তারিখ থেকে ২৬ জুন ২০২১ তারিখ পর্যন্ত ১৭দিনে ২৬টি মরদেহ দাফন হয়েছে। যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশী।
তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় তিন কোটি টাকায় দুই বিঘা জমি ক্রয়ের জন্য জমির মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয় সে ক্ষেত্রে কবরস্থানটি সম্প্রসারিত করা পর্যন্ত দাফন কাজ স্থগিত করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
মীর খায়রুল আলম/বার্তা বাজার/এফএইচপি