সিনহা হত্যা মামলার চার্জ গঠন, আসামীদের জামিন নামঞ্জুর

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মুহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক ভাবে চার্জ গঠন করা হয়েছে। একই সাথে আসামী টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও কনস্টেবল সাগর দেবসহ ১০ আসামীর মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন নাকচ করেছে আদালত।

রোববার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল এর আদালতে তোলা হয়। ১১টার সময় মামলার আনুষ্টানিকতা শুরু হয়।

আসামীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১, ১০৯, ৩৪ ধারাসহ আরো কয়েকটি ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। একই সাথে সকল আসামীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পাব্লিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট ফরিদুল আলম।

এ মামলায় ৯ জুন টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও ১০ জুন উপপরিদর্শক নন্দ দুলাল রক্ষিত জামিন আবেদন করেছেন। ১০ মাসের বেশি সময় পলাতক থাকার পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈলের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মামলার আরেক আসামি কনস্টেবল সাগর দেব।

এই হত্যা মামলায় ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম।

গেলো বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সিনহা তল্লাশিচৌকিতে বাধা দেন। আর তিনি পিস্তল বের করলে চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। তবে পুলিশের বক্তব্য নিয়ে সে সময় প্রশ্ন ওঠে। আর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস ৯ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযুক্ত সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। মামলার তদন্ত ভার পেয়ে র‍্যাব-১৫ আরো স্থানীয় তিনজন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য এবং প্রদীপের দেহরক্ষীসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর