অর্থ পাচারের ৯৫ শতাংশ মামলাই ঝুলে আছে

অর্থ পাচারের ৯৫ শতাংশ মামলাই ঝুলে আছে। আর মোট মামলার ৪ ভাগের ৩ ভাগই নিম্ন আদালতের গন্ডি পেরোতে পারছে না। আবার আইনি জটিলতাসহ উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় বিচার কার্যক্রম শুরু এবং নিষ্পত্তিও হচ্ছে না যথাসময়ে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চূড়ান্ত রায় না হওয়ায় পাচারের অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হচ্ছে না।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিএফআই’র হিসেব অনুযায়ী বছরে দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার নজির একটির বেশি নেই। ২০১২-১৩ সালে তিন দফায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সন্তান প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা ২১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ দেশে ফেরত এনেছিলো দুদক।

নিম্ন এবং উচ্চ আদালতের তথ্য বলছে, বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো বছরের পর বছর ধরে বিচারাধীন।

আদালতে যাদের মামলা চলছে তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক এমপি বিএনপি নেতা হাফিজ ইব্রাহিম, যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া, ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী, বরখাস্ত ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিক, ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ এমন দুইশোর বেশি অভিযুক্তের নাম পাওয়া গেছে।

সুপ্রিম কোর্ট ও দুদকের তথ্য বলছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলার সংখ্যা ৪০৮টি। যার মধ্যে ১৮৭টি মামলা দুদকের। ৮৫টি মামলার বিচার চলছে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে। আর ঢাকায় দশটি বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন ১৮৫টি মামলা।

এরমধ্যে হাইকোর্টের আদেশে ৫২টি মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত আছে। আপিল শুনানির অপেক্ষায় আছে ২০টিরও কম মামলা। উচ্চ আদালতে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যাও ২০টির বেশি নয়।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা যায়, তবে চূড়ান্ত রায়ের কপি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মাধ্যমে বিদেশে পাঠাতে হয়। টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি খুবই সহজ কিন্তু দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। এজন্য প্রথমে প্রসিকিশনটা শেষ করতে হবে। মামলা শেষ করার পর যদি রায় পাওয়া যায়, এই রায়ের কপি যদি পাঠানো হয় তারা তা যথাযথভাবে পরীক্ষা করে আমাদের জানাবে যে আপনাদের টাকা আপনারা নিয়ে যান।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা থাকলে অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। আমাদের দেশে কিন্তু ইতিমধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। বাস্তবে সত্যিকার অর্থে সদিচ্ছার এবং সৎ সাহসের ঘাটতি অন্যতম কারণ।

একসময় কেবল দুদক অর্থ পাচারের তদন্ত করলেও এখন এনবিআর, সিআইডিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেরও এই ক্ষমতা রয়েছে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর