নোয়াখালীতে অপরিচিত দুই তরুণ এক কলেজ ছাত্রীকে মুখে টেপ লাগিয়ে হাত পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্রী নোয়াখালী সরকারি কলেজে স্নাতক(সম্মান) শ্রেণিতে পড়ুয়া। শনিবার বেলা ১১টায় অঙ্গীকারনামা জমা দিতে গিয়ে এ নির্যাতনের শিকার। কলেজের ব্যবসায়ী শিক্ষা ভবনের ছাদে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানায়।
জানা গেছে, কলেজের রঙের কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক ছাদে উঠলে রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্রীকে দেখতে পায়। তখন তিনি কলেজের শিক্ষকদের ডেকে নিয়ে যায়। শিক্ষকরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে অফিসে নিয়ে আসেন। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
ঘটনাস্থল পরির্দশনকারী সুধারাম থানার উপপরিদর্শক আকলিমা আক্তার বলেন, ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। পেছন থেকে মুখ চেপে ধরা হয়। এরপর মুখে টেপ লাগিয়ে ছাদে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। ছাত্রী তাঁকে অন্য কোনো নির্যাতনের কথা জানাননি। তবে মারধরের কারণে তিনি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ সালমা আক্তার বলেন, কলেজে আসা মেয়েটিকে দুই যুবক ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে তাঁকে জোর করে ভবনের ছাদে নিয়ে যান। পরে সেখানে তাঁর হাত-পা বেঁধে মুখে টেপ লাগিয়ে তাঁকে কিলঘুষি ও লাথি দিতে থাকেন। তাঁরা বলতে থাকেন, ‘তোর কে আছে, তাকে আসতে বল।’ কিলঘুষিতে ছাত্রীর নাক ফেটে রক্ত বের হতে থাকে, যার একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ছাত্রীকে ছাদে ফেলে পালিয়ে যান।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওই ছাত্রীকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করতেন এক তরুণ। এরপর ওই ছাত্রী আইডিটি ব্লক করে দেন। মারধরের ঘটনার সঙ্গে এর যোগ থাকতে পারে বলে ছাত্রীটি সন্দেহ করছিলেন।
সুধারাম থানার ওসি মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন বলেন, নোয়াখালী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে মুখে টেপ লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধরের একটি ঘটনা শোনার পর তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে কারা ওই ঘটনায় জড়িত, তা শনাক্ত করা যায়নি। ছাত্রীও তাঁদের চেনেন না। ছাত্রীকে তাঁরা চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
বার্তা বাজার/টি