মাদারীপুরের রাজৈরে বঙ্গবন্ধু আশ্রায়ণ পল্লী প্রকল্পের কাজে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ওসিসহ ৭ পুলিশ ও আরো অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত জনতা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান টিপুকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় ফাঁকা গুলি বর্ষন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে চেয়ারম্যানকে মুক্ত করে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার আমগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, উপজেলার আমগ্রাম বাজারে বিচরন বাড়ৈ নামে এক ব্যক্তির উপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান টিপুর লোকজন হামলা করেছে। এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু করে।এবং সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এক পর্যায়ে শতশত উত্তেজিত জনতা বর্তমান চেয়ারম্যানকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ৬৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
এসময় উত্তেজিত জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ কয়েকটি বাড়ী ও ৫টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এসময় জনতার ইটপাটকেলের আঘাতে রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদিক ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেনসহ ৭ পুলিশ আহত হয়। অন্যান্য আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় বিচরন বাড়ৈ, শরৎ মন্ডল, পলাশ বাড়ৈকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি আমগ্রাম বনেরবাড়ী দক্ষিনপাড়া সেনখালীতে একটি খাল ভরাট করে বঙ্গবন্ধু আশ্রায়ণ পল্লী নামে দুটি আবাসন প্রকল্প নির্মান কাজের বিরোধিতা করে আসছিল বিচরন বাড়ৈ ও চেয়ারম্যান প্রার্থী সুভাষ বাড়ৈ গংরা। এরই জের ধরে বিচরনের উপর হামলা করে বর্তমান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন।
রাজৈর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, ৬৬ রাউন্ড শর্ট গানের ফাঁকাগুলি বর্ষন করে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনতে হয়েছে। এসময় জনতার নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে ওসিসহ ৭ পুলিশ আহত হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হয়নি।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তা বাজার/টি