ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মারা মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের ছোটভাই রাশেদুল হাসান রায়হান তার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে তিনি এই জিডি দায়ের করেন।
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন- একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এক নারীর ছবিকে বিকৃত করে তার ছবির সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে হেয়প্রতিপন্ন করছে।
জানা যায়, নায়েব আলী নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওই বিকৃত ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে- সোনাগাজীতে গৃহবধূকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে প্রবাসী স্বামীর কাছ থেকে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করল নুসরাতের ভাই প্রতারক রায়হান। বিস্তারিত আসছে…।
একইভাবে ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি থেকে এই ছবি ছড়িয়ে তাকে ও তার পরিবারকে সামজিকভাবে ছোট করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় তিনি জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ব্যাপারে সোনাগাজী থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রহিম সরকার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, আমরা তার বিষয়টি তদন্ত
করে দেখছি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ১০ এপ্রিল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তরে এ ঘটনা নিয়ে সমালোচনা ওঠে।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ ১৬ জন আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
নুসরাত হত্যার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে পুলিশ পাহারা রাখা হয়েছে। পালাক্রমে ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য নুসরাতের বাড়িতে নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম