রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) রফিকুল ইসলামের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে দুই স্কুলছাত্রী। জানা যায়, উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের জলিল সরদার পাড়ার রুপচাঁদ সরদারের ছেলে সুজন সরদারের (১৭) সাথে পাশ্ববর্তী ছাত্তার মেম্বার পাড়ার আলাল শেখের মেয়ে ৮ম শ্রেনী পড়ুয়া মায়ার (১৩) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এর সূত্র ধরে সুজন ৩ দিন আগে মায়াকে তাদের বাড়িতে নিয়ে তোলে। উভয় পরিবারের অভিভাবকরা তাদের বুঝিয়ে আলাদা করার চেষ্টা করে।কিন্তু তারা বিয়ের দাবিতে অনড় থাকে। এ পর্যায়ে ছেলের পরিবার তাদের যে কোন উপায়ে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।
বিষয়টি টের পেয়ে মায়ার বাবা শনিবার দুপুরে স্হানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতিকে বিষয়টি জানান।
সমিতির সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার আতাউর রহমান মঞ্জু তৎক্ষনাৎ গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রফিকুল ইসলামকে এ বিষয়ে অবগত করেন।
শনিবার বেলা ১ টার দিকে তারা রুপচাঁদ সরদারের বাড়িতে যান।সেখানে সহকারী কমিশনার উভয় অভিভাবক ও ছেলে – মেয়েকে বাল্যবিয়ের কুফল ও আইনত শাস্তির বিষয়ে অবগত করেন । পরে তারা মুচলেকা দিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন এবং মায়াকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ছোটভাকলা গ্রামের মুন্নাফ শেখের মেয়ে মুন্নী আক্তারকে (১৫) বাল্য বিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তার পরিবার। বর রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা এলাকার আঃ জব্বারের ছেলে ইমরান হোসেন।
গোপন সংবাদ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট মোঃ রফিকুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে এ বিয়ে বন্ধ করাসহ বর ও কণে পক্ষকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং মুচলেকা নেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, স্কুল ছাত্রী দুটোর বাল্য বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে তার এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মেহেদী হাসান রাজু/বার্তা বাজার/টি