বালিয়াকান্দিতে আসামি ধরতে গিয়ে এসআই মারধোরের শিকার

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারে আসামি ধরতে এসে শনিবার (২৬ জুন) সকালে কালুখালী থানার এসআই আশিকুর রহমান মারধোরের শিকার হয়েছেন।

তাকে প্রথমে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

পুলিশ অভিযুক্ত কালুখালী উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামের আইনুদ্দিন মোল্যার ছেলে রিপন মোল্যাকে আটক করেছে।

স্থানীয় সোনাপুর বাজার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সোনাপুর বাজার বালিয়াকান্দি থানার মধ্যে হলেও পার্শ্ববর্তী কালুখালী থানা পুলিশ প্রতিনিয়ত সোনাপুর বাজারে এসে বিভিন্ন নেতার ঘরে বসাসহ প্রভাব বিস্তার করে। বিষয়টি বিগত আইন-শৃঙ্খলা সভায় অবহিত করা হয়। তারপরও কোন পদক্ষেপ হয়নি।

কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের বেতবাড়ীয়া গ্রামের সোহরাব মোল্যার ছেলে সবুজ মোল্যা বলেন, আমি বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারে ব্যাটারীচালিত অটোবাইকের স্টাটার হিসেবে কাজ করি। শনিবার (২৬ জুন) সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে বসে থাকাকালীন সময়ে সাদা পোশাকে ২জন ব্যাক্তি মোটর সাইকেলে এসে আমার নাম জিজ্ঞাসা করাসহ আমার শরীর তল্লাশী করে হাতে হ্যান্ডকাপ পড়ায়।

পরে আমি বুজতে পারি পুলিশ। এ দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে কি জন্য তাকে(আমাকে) ধরছেন, বলে ওয়ারেন্ট আছে। কিন্তু ওয়ারেন্ট দেখাতে না পেরে হ্যান্ডকাপ খুলে দেয় এবং আমাকে মোটর সাইকেলে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজনের সাথে বাকবিতন্ডার পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নবাবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসান আলী বলেন, সোনাপুর বাজারটি আমার ইউনিয়নের মধ্যে। কিন্তু দীর্ঘদিন অটোবাইকের স্টাটারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। প্রথমে কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ীর ফরিদ স্টাটার ছিল। তাকে বাদ দিয়ে মাজবাড়ীর বিল্লাল হোসেনকে দায়িত্ব দেয়। সে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়ার পর মাজবাড়ীর টুটুলকে দায়িত্ব দেয়। লকডাউন হওয়ার কারণে টুটুল দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে চলে গেলে বেতবাড়ীয়ার সবুজ মোল্যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এরপর সবুজ দায়িত্ব পালন করাকালীন সময়ে মাজবাড়ীর হাফিজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়ে সবুজ ও হাফিজ গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। শনিবার (২৬জুন) সাড়ে ১১টার দিকে কালুখালী থানার এসআই আশিকুর রহমান এসে সবুজের হাতে হ্যান্ডকাপ দেয় এবং ওয়ারেন্ট আছে বলে প্রকাশ করে। কিন্তু ওয়ারেন্ট দেখাতে না পারায় স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

বালিয়াকান্দি থানার ওসি তারিকুজ্জামান বলেন, কালুখালী থানার এস,আই আশিকুর রহমান বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর বাজারে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতারে আসলে মারধোরের শিকার হয়।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন কুমার সাহা বলেন, সোনাপুর বাজারে আসামি ধরতে এসে এস,আই আশিকুর রহমান আহত হয়েছেন। একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে।

মেহেদী হাসান রাজু/বার্তা বাজার/এফএইচপি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর