রৌমারীতে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়তে শুরু করায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। বর্ষার শুরুতেই ব্রহ্মপুত্র নদের পানি প্রখর স্রোতে আগ্রাসীরূপ ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে ঘুঘুমারী গ্রামের ৮টি বসতবাড়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিক নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এতে আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীর তীরবর্তী এলাকাবাসী।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকায় তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আংশিক কাজসহ বসতভিটা, ফসলি জমি বিলিন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ভাঙ্গন বন্ধে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে জলে ভেস্তে যাবে সরকারের কোটি কোটি টাকার এ প্রকল্প।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ক্রমেই বাড়ছে। ফলে উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের ঘুঘুমারী, চরঘুঘুমারী, সাহেবের আলগা, খেরুয়ারচর, খেদাইমারী, চরখেদাইমারী, বন্দবেড় ইউনিয়নের বলদমারা, বাইসপাড়া, ফলুয়ারচর, যাদুরচর ইউনিয়নের দিগলাপাড়া, ধনারচরে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়তে থাকায় শুরু হয়েছে ভাঙন। এতে ঘুঘুমারী গ্রামের ৮টি বসতবাড়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিক নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়াও হুমকিতে রয়েছে অর্ধশতাধিক বসতবাড়ী ও আবাদি জমি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ ৭.৩ কিলোমিটার। এতে ব্যয় ধরা হয় ৪৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের ১৫টি প্যাকেজের মধ্যে আরএফএল কোম্পানীর ৪টি, স্টান্ডার্ড কোম্পানীর ৪টি, তাজ মঞ্জিলের একটি, জেডিএমএম বিল্ডার্স একটি, মেসার্স ডন কর্পোরেশন এন্ড সানফ্লাওয়ার কোম্পানী একটিসহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজগুলী পায়।
ব্রহ্মপুত্রের পারে বসবাসরত বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান বদি, আবু বক্কর মাষ্টার, হাবিল (অব:) সেনা সৈনিক, কুদুর ব্যাপারী, রাশেদ, লাল মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ঠিকাদাররা আংশিক কাজ করে চলে যায়। বর্ষার আগমূহুর্তে এসে আরএফএল কোম্পানী কিছু বস্তা ডাম্পিং করলেও বাকি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ বন্ধ রেখেছেন। ব্রহ্মপুত্র নদে যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, সময় মত বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারলে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে শতশত বসতভিটাসহ আবাদি জমি। এতে জলে ভেস্তে যাবে সরকারের এই শতকোটি টাকার প্রকল্প।
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কাজের গতি বাড়ানের অনুরোধ করেও কোনো কাজ হয়নি।
তীর সংরক্ষণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ডন কর্পোরেশন এন্ড সানফ্লাওয়ার কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের কাজের তদারকি করেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও শাখা কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান।
তিনি বলেন, কিছু কাজ করার পর গত ৫ মাস ধরে এই কোম্পানীর কাজ বন্ধ রেখেছেন। অফিসিয়ালিভাবে তাদেরকে কাজ শুরু করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তারা কয়েকদিনের মধ্যে বালুর বস্তা ভর্তি ও ব্লকের কাজ শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আরএফএল কোম্পানীর দায়িত্বরত (পিডিএল) প্রকল্প ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাঁধ রক্ষায় বালু ভর্তি বস্তা ফেলানোর কাজ চলমান রয়েছে। সিসি ব্লক ফেলানোর অর্ডার পেলেই কাজ শুরু করা হবে। তা আগামী বছরেই শেষ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, করোনাকালীন সময়ে ভারত থেকে পাথর আমদানী বন্ধ থাকায় বোল্ডারিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে আগামী ২০২২ সালের জুলাই মাসে বামতীর রক্ষার কাজ শেষ করা হবে। তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় নতুন করে নদী ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে, সেসব এলাকায় সরেজমিনে তদন্ত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ইয়াছির আরাফাত নাহিদ/বার্তা বাজার/এফএইচপি