কুড়িগ্রামের উলিপুরে পারিবারিক কলহের জেরে বাবলু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২৬ জুন) ভোররাতে বাড়ির আঙ্গিনার লিচু গাছের ডালে গলায় রশি পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ী এলাকায়।
এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজন সূত্রে জানা যায়, বাবলু মিয়ার দ্বিতীয় পুত্র লিয়ন মাদকাসক্ত। সংসারে অশান্তির কারনে কিছুদিন পূর্বে তার স্ত্রী একই ইউনিয়নের দড়িচর গ্রামে পিতার বাড়িতে চলে যান। স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য বাবা-মা ও ভাইয়ের উপর চাপ সৃষ্টি করে লিয়ন। এজন্য প্রায়সময় তাদের উপর অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।
পরে ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে বাবলু মিয়া শুক্রবার (২৫জুন) সন্ধ্যায় পূত্রবধূকে আনতে দড়িরচর গ্রামে ছেলের শশুরবাড়িতে যান। সেখানে বৈঠকে ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে অপমান ও নানান কটু কথা শোনায় এবং মেয়েকে তাদের বাড়িতে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরে পুত্রবধূকে ছাড়াই বাড়িতে চলে আসেন বাবলু মিয়া। এঘটনার পর শনিবার ভোরবেলায় বাড়ির আঙ্গিনায় অবস্থিত লিচু গাছের ডালে গলায় দড়ি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
নিহত বাবলু মিয়া ধামশ্রেনী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের পূত্র।
ধামশ্রেনী ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য আবু সুফিয়ান গলায় ফাঁস দিয়ে বাবলু মিয়ার আত্মহত্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির জানান, প্রাথমিক সুরৎহাল শেষে মৃতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে। এ ব্যাপারে একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শিমুল দেব/বার্তা বাজার/এফএইচপি