ঢালাওভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ কখনই চান না দেশের ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, সবার আগে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে কালো টাকার উৎস বন্ধ করা উচিত। সেই সঙ্গে যদি করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সুযোগ রাখতেই হয় তাহলে তা দেয়া উচিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্তে।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১০ মাসে মাত্র ১০ শতাংশ কর পরিশোধ করে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা বা সমমূল্যের অপ্রদর্শিত সম্পদ বৈধ করেছেন ১০ হাজার ৪শ’ ৪ জন। এ উৎস থেকে সরকারের রাজস্বও এসেছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। বুধবার এক ব্রিফিংয়ে আগামী অর্থবছরেও এমন সুযোগ বহাল রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু ঢালাও ভাবে অবৈধ সম্পদ বা কালো টাকা বৈধ করার এমন সুযোগের ঘোর বিরোধী দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ডিসিসিআই’র সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, ‘কালো টাকা আয়ের উৎসটা চিহ্নিত করা জরুরি। এভাবে ঢালাওভাবে বিনা প্রশ্নে এই সুযোগটা দেয়া অন্যায়। যারা হালাল উপায়ে আয় করছে তাদের মধ্যে একটা যৌক্তিক পার্থক্য থাকা উচিত। তা নাহলে যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী তারা উৎসাহিত হবেনা।’
ব্যবসায়ীদের দাবি সবার আগে কালো টাকার উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করতে হবে। আর যদি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিতেই হয় তাহলে তা কেবল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার শর্তেই দেয়া উচিৎ। এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘কালো টাকা তৈরি করার যে সুযোগগুলো রয়েছে এটা বন্ধ করতে হবে। আর যদি কালো টাকা হয়েই যায় তাহলে পাচার হয়ে যাওয়ার চেয়ে দেশেই সেটা কোনভাবে কাজে লাগানো দরকার। কর্মসংস্থান তৈরিতে এটা লাগানো যেতে পারে।’
আবাসন বা পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিলে এসব খাত দীর্ঘ মেয়াদে বড় ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে বলেও মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা। এ অবস্থায় লাভজনক হয় এমন উপায়ে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ না রাখার জোর দাবি ব্যবসায়ী সমাজের।
বার্তাবাজার/পি