বালিয়াকান্দিতে শিক্ষার্থীদের উপ-বৃত্তি প্রদানে বিকাশ এজেন্টের প্রতারণা
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে এক বিকাশ এজেন্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপ-বৃত্তি প্রদানে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত বিকাশ এজেন্টের নাম, জাহাঙ্গীর আলম জিকু ওরফে জিকু ডাক্তার। সে উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের নতুনচর স্কুলের সামনে ঔষধ, মুদিদোকান, পেট্রোল ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের নতুনচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী জুথি। তার সরকারি উপ-বৃত্তির টাকা মোবাইলে আসে। বিকাশ এজেন্ট জাহাঙ্গীর আলম জিকু ১৮শ টাকা ক্যাশ আউট করলেও তাকে ৯শ টাকা প্রদান করে। শিক্ষার্থী রাসেল ১৩শ ৫০ টাকা ক্যাশ আউট করলে ৮৭৫ টাকা দিয়েছে। জাকিরের ছেলের ৫৪শ টাকা ক্যাশ আউট করে ১৮শ টাকা দিয়েছে। মোহাম্মদের ছেলে আলিফের ১৮শ টাকা ক্যাশ আউট করে ৯শত টাকা দিয়েছে।
এ এজেন্টের নিকট থেকে যারাই টাকা উত্তোলন করেছে সে সকল শিক্ষার্থীর টাকা অর্ধেক প্রদান করে বাকী টাকা হাতিয়ে নেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে টাকা ফেরত দিয়ে রক্ষা পায়।
স্থানীয় নতুনচর গ্রামের কয়েকজন বলেন, সে এলাকায় চিকিৎসার পাশাপাশি ঔষধ বিক্রি, তেল, পেট্রোল, মুদিসামগ্রী বিক্রি করে আসছে। বিকাশ এজেন্ট থাকায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তার কাছ থেকেই টাকা উত্তোলন করে। এ সুযোগে ১৮শ টাকা ক্যাশ আউট করে ৯শ টাকা করে প্রদান করেছে। এখন যারা টের পেয়ে তার কাছে আসছে তাদেরকে ফেরত দিচ্ছে।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম ওরফে জিকু ডাক্তারের সাথে কথা বলতে তার বাড়ীতে গেলে সে পরিচয় গোপন করে ঘরের মধ্যে চলে যায়। পরে তার দোকানে আসলে দেখা যায় ঔষধ, পেট্রোলসহ মুদিখানার সকল মালামাল এক দোকানেই বিক্রি করছে।
ধরা পড়ে গেলে পরে সে মোবাইল ফোনে টাকা ফেরতের কথা স্বীকার করেন।
নতুনচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর এবং ২০২১ সালের জানুয়ারী থেকে জুন মাস পর্যন্ত ১৮শ টাকা করে প্রতি শিক্ষার্থীদের অনুকুলে উপ-বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ টাকা আসার পর ১৮শ টাকা করে ক্যাশ আউট করে ৯শ টাকা করে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়। বৃহস্পতিবারও দুজনকে টাকা ফেরত দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মেহেদী হাসান/বার্তা বাজার/এফএইচপি