কারাগারে আত্মহত্যা করলেন ম্যাক্যাফি অ্যান্টিভাইরাসের নির্মাতা

স্পেনের বার্সেলোনার এক কারাগারে আত্মহত্যা করেছেন ম্যাক্যাফি অ্যান্টিভাইরাসের সফটওয়্যার নির্মাতা জন ম্যাক্যাফি।
কর ফাঁকির অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরই তিনি আত্মহত্যা করেন।

বুধবার (২৩ জুন) স্পেনের বার্সেলোনার এক কারাগারে ম্যাক্যাফি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্স জানিয়েছে, ম্যাকাফি কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পালিয়ে গিয়ে কোথাও একটি বিলাসবহুল তরীতে থাকছিলেন। সঙ্গে তার স্ত্রী জেনিস ম্যাক্যাফি, নিরাপত্তা প্রহরী ও চারটি কুকুর ছিল।

বিপুল পরিমাণ উপার্জন থাকার পরও ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেন নি ম্যাক্যাফি। নিউইয়র্কে তার বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকরেন্সি প্রতারণা অভিযোগ আছে। এমন অভিযোগ আনার পরই গা ঢাকা দেন তিনি। তবে কর ফাঁকির কথা স্বীকার করে ম্যাকাফি বলেছিলেন, আদর্শিক কারণে আট বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কর দেন না।

এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ম্যাক্যাফি তার অর্থ একাধিক জনকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বেনামে একাধিক প্রমোদতরী, বাড়ি-জমির মতো সম্পদ গোপন করার অভিযোগ ছিল।

২০২০ সালে ইস্তাম্বুলে যাওয়ার পথে স্পেনে গ্রেফতার হন তিনি। এরপর থেকে স্পেনের আদালতে তার বিচার চলছিল। সবশেষ গত মাসে স্পেনের আদালতে শুনানির সময় ম্যাক্যাফি আদালতকে বলেছিলেন, তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে বাকি জীবন তাকে কারাগারেই থাকতে হবে। আর যুক্তরাষ্ট্রে অবিচার হচ্ছে। আমি আশা করছি স্পেনের আদালত এটা দেখবেন।

ম্যাকাফির আইনজীবী জাভিয়ের ভিল্লালবা জানান, অ্যান্টিভাইরাসের নির্মাতা জন ম্যাক্যাফি ৯ মাস ধরে কারাগারে ছিলেন। এতে তিনি হতাশার দিকে চলে যান। যা তাকে ফাঁসির দিকে নিয়ে যায়।

কাতালান বিচার বিভাগ জানিয়েছে, কারাগারের চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাদের যাবতীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ম্যাক্যাফির আইনজীবীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রিজন সেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৮০ এর দিকে তার নিজ নাম ম্যাক্যাফি নামে একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠা করেন এই প্রযুক্তিবিদ। এরপর সেটি আরেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনটেলের কাছে ম্যাক্যাফি বিক্রি করেন তিনি। এরপর থেকে আর কোনো ব্যবসায় জড়াননি বলে জানা গেছে।

বার্তা বাজার/এফএইচপি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর