মাদারীপুরে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্য দিয়ে ৭ দিনের লকডাউন চলছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার (২২ জুন) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ লকডাউন আগামী ৩০ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত বহাল থাকবে। জেলায় করোনা ভাইরাস বৃদ্ধি পাওয়া ও পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলায় ভারতের ভ্যারিয়েন্ট (ডেলটা করোনা) পাওয়ার কারণে এ লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে সোমবার (২১ জুন) রাতে এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এরপরে রাতেই জেলার তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও লকডাউন বাস্তবায়নে সচেতনামূলক মাইকিং করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মঙ্গলবার সূর্যের আলো ফোটার সাথে সাথে জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ের সড়ক গুলোর বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে পুলিশের কঠোর ভূমিকা পালন করছে। তারা বিভিন্নভাবে মানুষকে সচেতন করছে এবং বিনা প্রয়োজনে কাউকে ঘর থেকে রাস্তায় বের না হওয়ার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন। এসময় অপ্রয়োজনে বের হওয়া লোকজনদের ঘরে ফেরাতে জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তৎপরতা লক্ষ করা গেছে।
মাদারীপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. সফিকুল ইসলাম জানান, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট (ডেলটা করোনা) পাওয়া গেছে। এটি মাদারীপুরের চারটি উপজেলার মধ্যে সদর, রাজৈর ও কালকিনি উপজেলার সাথে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মানুষের অবাধ যাতায়াত রয়েছে। এর মধ্যে কোটালিপাড়ার সবচেয়ে বেশি কাছে রাজৈর উপজেলা। ফলে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে মাদারীপুর। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় ৪৮টি নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জন শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার হার ৩৭.৫ শতাংশ। ফলে জেলায় করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগ এই লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ২শ ৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৫শ ৩৪ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২শ ৫৯জন সুস্থ্য হয়েছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২শ ৪৫ জন। এদের মধ্যে আইসোলেশনে একজন ও হোম আইসোলেশনে ২শ ৪৪ জন রয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তা বাজার/এফএইচপি