নিজ দলের নেতারা কাজ কেড়ে নেওয়ায় হতাশাগ্রস্থ ছাত্রলীগ নেতার আত্মহত্যা!
রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকায় আবু বক্কর সিদ্দিক রুবেল (৩৫) নামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মৃত্যুকে ঘিরে জন্ম হয়েছে রহস্যের। মঙ্গলবার (২২ জুন) এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্ত্রী দাবি করছেন, সিটি করপোরেশনের ময়লার লাইন পরিস্কারের কাজ সাব কন্ট্রাকে নিয়েছিলেন রুবেল। এই কাজ কেড়ে নেওয়ার হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় ৩ নেতা এই কাজ কেড়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এটি হত্যা না কি আত্মহত্যা সে বিষয়ে এখনও পুলিশ সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জানা যাবে আসল ঘটনা।
জানা যায়, কলাবাগান থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক রুবেলকে মঙ্গলবার (২২ জুন) দুপুরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান তার স্ত্রী। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে রুবেলের স্ত্রী লাবনী আক্তার জানান, আমার স্বামী আবু বকর সিদ্দিক রুবেল ১৭ নং ওয়ার্ডে সাব কন্ট্রাক্টে সিটি করপোরেশনের ময়লার লাইন পরিচালনা করতেন। গত ৯ জুন আমার স্বামীর কাছ থেকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতা জোরপূর্বক লাইনটির দায়িত্ব নিয়ে নেয়। যদিও আমাদের সঙ্গে ১ বছরের চুক্তি ছিল। আমার স্বামী তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় লাইনটি নিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, লাইন কেড়ে নেওয়ার পর থেকেই তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময় মাথার চুল একা একাই ছিঁড়তেন। আজ সকালে তিনি ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। মাত্র ১০ মাস আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে। এখনো বিয়ের অনুষ্ঠান করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে রুবেলের ছোট ভাই ওসমান গণি বলেন, আমার ভাই কলাবাগান থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি সিটি করপোরেশনের ময়লার টেন্ডার পেয়ে কাজ করতেন। শিশির, সজীব ও শিমুল ময়লার লাইনটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমার ভাইকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিল। পরে গত ৯ জুন তারা ভাইয়ের লাইনটি জোর করে নিয়ে নেয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ আব্দুল্লাহ খান জানান, রুবেলের মৃত্যুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়েছে।
বার্তা বাজার/এসজে