বিপর্যস্ত ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প, কর্মহীন হাজারো মানুষ

দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প এখন ধ্বংসের মুখে। মহামারি করোনার কারণে তাতীদের এখন নিদারুণ কষ্টে দিন কাটছে। এমনি এক তাঁত শিল্প এলাকা মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দিঘুলিয়া ও বরাইদ ইউনিয়নের সাভার নামক গ্রাম। সেখানে রয়েছে শত শত তাঁতী উদ্যোক্তা। দুইটি ইউনিয়নের বেশিরভাগ তাঁতিরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত এবং তাদের তাঁতশিল্প একেবারে বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

তাঁতীদের কাছ থেকে জানা যায়, তাদের একটি কারখানায় প্রায় ৫০/৬০ জন লোক কাজ করত এবং তাদের বেতন স্কেল ছিল সপ্তাহে ৫০০০ টাকা তবে শ্রমিকরা এখন বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তার অন্যতম কারণ করোনা মহামারী এবং লকডাউনের কারণে গত এক বছর যাবত তাদের ব্যবসা এক প্রকার নেই বললেই চলে। তবে দুই ইউনিয়ন মিলে কারখানাগুলোতে প্রায় ৩/৪ হাজার শ্রমিক কাজ করত। বর্তমানে তাদের সাংসারিক অবস্থা বিপর্যস্ত। নতুন করে ব্যবসা করার মতো কোন পুঁজি নেই তাদের। কারখানা বন্ধ প্রায় এক বছর। এর বাইরেও তারা কোন কাজ করতে পারছে না বলে জানান।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, অনেকগুলো কারখানা ছিল এখানে তবে বেশির ভাগই বন্ধের পর্যায়ে এবং কিছু পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার একজন উদ্যোক্তা বার্তা বাজার কে জানান, তাদের পূর্বপুরুষরাও এই ব্যবসা করতেন তবে কেউ কোনদিন এরকম বিপদের সম্মুখীন হয়নি।

তিনি আরো বলেন, এই খারাপ অবস্থায় কেউ তাদের কোনো সহায়তা করেনি। তাদের এখান থেকে অনেকগুলো জেলাতে কাপড় পাঠানো হতো। নতুন করে শুরু করবে সেই উপায় তারা খুঁজে পাচ্ছে না। দুবেলা দুমুঠো ভাত খেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।

গ্রাম অঞ্চলের এইসব উদ্যোক্তাদের এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যে কেউ করছে না সাহায্য, এমনকি সরকার থেকেও পাচ্ছে না কোনো আর্থিক সহায়তা। এ অবস্থায় কাজ হারিয়ে বেকার হাজারো শ্রমিক। অথচ আগে তারা এ পেশা থেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং স্বচ্ছল ভাবে জীবনযাপন করতেন।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহি অফিসার বলেন, সরকারিভাবে তাঁতিদের নিয়ে কোন প্রকার প্রণোদনা বা সহযোগিতা এখন পর্যন্ত আসেনি যদি ভবিষ্যতে আসে তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী এ ব্যাপারে সহযোগিতা করা হবে।

আফ্রিদি আহাম্মেদ/বার্তাবাজার/এফএইচপি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর