রাজশাহীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ১১ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ১০ দিনের চলমান লকডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালত মোট ৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৫০ টাকা জরিমানা আদায় করে। করোনায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও জারিকৃত আইন অমান্য করায় রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে জেলাজুড়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৪৪ টি মামলা বা অর্থদণ্ড করা হয়।
জেলা প্রশাসনের সূত্র মতে, ১১ জুন (শুক্রবার) বিকাল ৫টা থেকে ১৭ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) এলাকায় সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল জলিল। এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি হয়।
তদপ্রেক্ষিতে ১১ জুন থেকে ২০ জুনের চলমান সরকারি বিধিনিষেধ প্রতিপালন ও জনসচেতনা বৃদ্ধিতে রাজশাহী মহানগর ও উপজেলাগুলোতে প্রশাসনিক সহায়তায় মাঠে নামেন নির্বাহী ম্যাজিস্টেটসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। জেলাজুড়ে জনসচেতনতায় বিতরণ করা হয় মাস্ক। অন্যদিকে যারা সরকারি বিধি ভঙ্গ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মামলা ও অর্থদণ্ডসহ জরিমানা আদায় করেছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী জেলায় মোট ৩৪৪টি মামলা বা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এতে ৩৪৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিধি ভঙ্গের জন্য জরিমানা গুনতে হয়েছে ৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৫০ টাকা। এর মধ্যে রাজশাহী মহানগরীতে ১৮৭টি মামলায় ২ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে।
অন্যদিকে, তানোর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ভূমি কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় বাকি ৮টি উপজেলায় এক সপ্তাহের লকডাউনে অর্থদণ্ডের জরিমানা আদায় হয়েছে। ৮ উপজেলার মধ্যে- মোহনপুরে ১১টি মামলায় ৮ হাজার ৩০০ টাকা, বাগমারাতে ৩৯টি মামলায় ১৭ হাজার ৫৫০ টাকা, দূর্গাপুরে ১৯টি মামলায় ১৬ হাজার ৪০০ টাকা, পুঠিয়াতে ৪১টি মামলায় ৭০ হাজার ৩০০ টাকা, বাঘাতে ১৭টি মামলায় ৮ হাজার ৬০০ টাকা, পবাতে ১৩টি মামলায় ২৬ হাজার ৫০০ টাকা, গোদাগাড়ীতে ৪টি মামলায় ১০ হাজার টাকা ও চারঘাটে ১৩টি মামলায় ১ হাজার ৭০০ টাকা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
এছাড়া অর্থদণ্ডের পাশাপাশি পুরো রাজশাহী জেলায় জনসচেতনতা তৈরিতে বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৩০টি মাস্ক। এর মধ্যে রাজশাহী মহানগরীতে ৩ হাজার ২১০ টি মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া তানোর ব্যতীত বাকি ৮ উপজেলার মধ্যে- মোহনপুরে ৩৪০টি, বাগমারায় ৬৮০টি, দূর্গাপুরে ২৮০টি, পুঠিয়ায় ৪০০টি, বাঘায় ১৮০টি, পবাতে ১৮০টি, গোদাগাড়ীতে ১৮০টি ও চারঘাট উপজেলায় ১৮০টি মাস্ক জনসচেতনতায় বিতরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের (সাধারণ শাখা) দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার বলেন, ১০ জুন লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই রাজশাহীসহ জেলার ৮টি উপজেলায় কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ রোধে জনসচেনতা তৈরির লক্ষ্যে সরকারি বিধি বিধান বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাজশাহী মহানগরে প্রতিদিন মোট ৪টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করা হচ্ছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৫ জন পুলিশ, ৪ জন আনসার সদস্যের সমন্বয়ে একটি মোবাইল কোর্ট গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, অপরদিকে উপজেলা গুলোতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, একজন এসিল্যান্ড ও ৫ জন পুলিশের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচলনা করা হয়েছে। বর্ধিত আরও সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের এই নির্বাহী কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালের দন্ডবিধি আইন ও ২০১৮ সালের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ আইন বলে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে।
বার্তাবাজার/মোঃ নবী আলম/এফএইচপি