ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন চারঘাটের কৃষকরা
রাজশাহী চারঘাট উপজেলায় ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো) সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন পৌর এলাকার থানাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আকমল হোসেন। স্বপ্ন তার ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো) সার উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায় সে।
শুধু পৌর এলাকার আকমল না, জমিতে ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে কৃষি খাতকে আরো সম্প্রসারিত ও নিজ পরিবারকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করতে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন চারঘাটের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা।
তাদের মতো জৈব সার উৎপাদনকারীদের সংখ্যাও এখন উপজেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে কেঁচো ও গোবর দিয়ে উৎপাদিত জৈব সার জমিতে প্রয়োগে দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকেরা। এ জৈব সার ব্যবহারে তাদের জমির উবর্রতা ও শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি শাক-সবজি, ফল-মূলের ফলনও ভাল হচ্ছে।
গরুর গোবর আর কেঁচো থেকে জৈব ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছেন কৃষকরা, স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে এ বছর সার উৎপাদনের কাজে গত বছরের থেকে অনেক বেশি উদ্যোগী হয়েছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ও উপজেলা কৃষি অফিসের বাস্তবায়নে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প এর আওতায় উপজেলার ৬ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ১২০ জন কৃষক জৈব সার তৈরি করছেন, সমিতির মাধ্যমে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টির মত ভার্মি কম্পোষ্ট প্রদর্শনী চলমান রয়েছে।
সমিতির সদস্যরা কেঁচো সার উৎপাদনের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের থাই কেঁচো দ্বারা পরিবেশ বান্ধব জৈব সার তৈরির সকল প্রকার উপকরণ বিনামূল্যে সহায়তা প্রদান করছেন।
চারঘাট পৌরসভার থানা পাড়া গ্রামের মোঃ আকমল হোসেনের সাথে কথা বলে জানাযায়, গত কয়েক মাস আগে কেঁচো সংগ্রহ করে নিজের ফার্মের গরুর গোবর দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করেন।
প্রথম দিকে অল্প পরিমাণ সার উৎপাদন হলেও তাদের কর্মকান্ড দেখে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষকরা, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ভার্মি কম্পোস্টর প্রদর্শনী চালু করে।
বর্তমান এখান থেকে স্বল্প পরিসরে স্থানীয় কিছু সবজি চাষি ও নার্সারি মালিকরা প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে জৈব সার নিয়ে যাচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা পেলে ব্যবসার পরিধি আরো প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে।
আকমলের জৈব সার উৎপাদন দেখে বেকার যুবকরা দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। কৃষি অফিস থেকে থাই কেঁচো থেকে শুরু করে প্রদর্শনীর জন্য সকল প্রকার উপকরণ ও সার্বিক পরামর্শ পাচ্ছেন তারা।
জৈব সার উৎপাদন এবং নিজের সবজি ক্ষেত থেকে শুরু করে ধান ক্ষেতে সার ব্যবহারসহ প্রদর্শনীতে উৎপাদনকৃত সার সমিতির কিছু সদস্যদের মাঝে বিতরণও করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাইফুল্লাহ আহম্মদ জানান, ফসলি জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো ও কৃষকদেরকে পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্ধুদ্ধ করতেই সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
বর্তমানে জৈব সার উৎপাদনের বিষয়টি উপজেলার কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ায় চাষিরা ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আমরা কৃষকদের পরিবেশ বান্ধব জৈব সার ব্যবহারের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছি।
নবী আলম/বার্ত বাজার/টি