কুষ্টিয়ায় ১০ বছরের সন্তান রেখে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রী উধাও

কুষ্টিয়ায় দৌতপুর উপজেলার চক দৌলতপুর গ্রামে পরকীয়ার টানে ১০ বছরের সন্তানকে রেখে দুই সন্তানের পিতার সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী পপি খাতুন। সে দৌতপুর গ্রামের মিরাজ উদ্দিন মালিথার ছেলে মোঃ লিটন আলীর স্ত্রী।

জানা যায়, চক কৃষ্ণপুর মুজিবুর রহমানের পুত্র মোঃ খাইরুল ইসলাম শান্ত’র সাথে পালিয়েছে। এসময় পাপি খাতুন নগদ অর্থ ও গহনাসহ নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার দীর্ঘ ২০ দিন পার হলেও দৌলতপুর থানায় বিষয়টা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বারবার গেলেও মেলেনি কোন প্রতিকার। মোঃ লিটন আলী প্রবাসী তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত আছেন । দীর্ঘ ২ বছর আগে তিনি জীবিকার কারণে সৌদি আরবে যান ওখান থেকে পরিবারের জন্য অর্থ পাঠাতেন।

তাদের সংসারে ১০ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

লিটনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই । আমি আমার স্ত্রীকে ডিভোর্স দি নাই ।অন্যের স্ত্রীকে কিভাবে নিয়ে যাই।

এ দিকে খাইরুল ইসলামের ঘরেও ২ সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পপি খাতুনের শ্বশুর মেরাজ উদ্দিন বলেন আমার ছেলের সাথে ১৩ বছর পূর্বে বিয়ে হয় পপি খাতুন এর। আমি এই ঘটনা ঘটার পরপরই দৌলতপুর থানায় সহযোগিতার জন্য যায় তারা আমাদের কোনরকম কোন সহযোগিতা করে নাই।

আমরা খাইরুলের বাসায় যোগাযোগ করলে তারা ও তাদের বোনরা মিলে আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং হুমকি-ধামকি দেয়। এত বড় নেক্কারজনক কাজ করার পরেও কিভাবে তারা বুক ফুলিয়ে কথা বলে এটা আমার বোধগম্য হয়না ।

তার ঘরেও দুটি সন্তান রয়েছে এবং আমার পুত্রবধূর ও একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আমার নাতির মুখের দিকে তাকালে আমার কষ্ট হচ্ছে। সে তার মাকে ২০ দিন যাবত দেখছে না । তার মা বেঁচে আছে না মারা গেছে সেটাও আমরা জানি না। তারা মা কে নিয়ে কি করেছে আমরা কেউ কিছুই বলতে পারছিনা ।

আমরা এ বিষয়টি নিয়ে অনেক চিন্তিত । প্রশাসন যদি বিষয়টি নিয়ে একটু গুরুত্ব দিয়ে দেখে তাহলে একটি সন্তান তার মাকে ফিরে পেতে পারে। আমার ছেলের সাথে আমার পুত্রবধূর ডিভোর্স হয় নাই ।তাই আমরা এই নেক্কারজনক কাজের সঠিক বিচারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এলাকাবাসীরা বলেন এমন ঘটনাই আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। খাইরুল পাসের মাঠে কাজ করতে আসত । তার স্বামী বিদেশে থাকার কারণে এই সুযোগটা সে কাজে লাগিয়েছে। তবে খাইরুল যে কাজটা করেছে অনেক বড় একটি অন্যায় সে করেছে ।

এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া দরকার তা না হলে এমন ঘটনা আরো সৃষ্টি হতে পারে । তাহলে কি আমরা কাজ করতে স্ত্রী সন্তান রেখে বাইরে যেতে পারবোনা ।বাইরে গেলেই কি পরকিয়ায় লিপ্ত হতে হবে। আমরাও তো হুমকির মধ্যে রয়েছে। তাই আমরা এলাকাবাসীরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি এর একটি সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার।

এই বিষয় নিয়ে খায়রুলের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী শিউলি আক্তার বলেন আমি শুনেছি বিষয়টি আমার স্বামী ও পপি খাতুন এরা দুজন মিলে যে কাজটি করেছে তা দুঃখজনক আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিনা । কারন আমার দুটি সন্তান রয়েছে এই দুটি সন্তানের কি হবে । এই ঘটনার পরে আমার সাথে কোন যোগাযোগই রাখছে না আমার স্বামি। আমি এর একটি সুষ্ঠু সমাধান চাই।

অনেক খোঁজ করার পরে পপিকে খায়রুলের দুলাভাই আফফানের বাড়িতে দেখা মিলেছে বলে লোক মারফতে জানা যায়।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার খায়রুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন কোন অন্যায় কারী কে ছাড় দেওয়া হবে না । আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি এবং তার বিরুদ্ধে আইনত ভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফজলুল করিম টুটুল/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর