দেশের মত জনসংখ্যার চেয়েও ৯৯ লাখ ৬ হাজার জন বেশি জন্মনিবন্ধন করেছে। জন্ম নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য মতে ১৮ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ এখন পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধন করেছে।
এদিকে চলতি বছরের হালনাগাদ তথ্যমতে আদমশুমারি বলছে, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২০ লাখ ৯৪ হাজার। এখন প্রশ্ন উঠেছে বাড়তি জন্ম নিবন্ধন সনদ নিয়ে।
তবে জন্ম নিবন্ধন সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, জন্ম নিবন্ধন নির্ভুলভাবে করা হচ্ছে না। এক ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন, জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন না হওয়া, তথ্য যাচাইয়ে দুর্বলতা, মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন বাতিল করে তালিকা সংশোধন না করায় এমন অস্বাভাবিক হিসাব দেখা দিয়েছে।
বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচী ছাড়াও ১৬টি অত্যাবশ্যকীয় পরিসেবা পেতে প্রয়োজন জন্ম নিবন্ধন। অথচ এমন প্রয়োজনীয় জন্মনিবন্ধনের কোনো ঠিক নেই। আবার এই নিবন্ধনে ভুল হলে তা সংশোধন কিংবা নতুন নিবন্ধন করতে ভোগান্তির শেষ নেই।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ই দেশের নাগরিকদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচলনা করছে। জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র দুটি আলাদা কর্মযজ্ঞ। জন্ম নিবন্ধনের কাজটি করে ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশনের কমিশনার অফিস। সারা বছরই জন্ম নিবন্ধন বা তা সংশোধন করা যায়। ২০০৪ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, বিয়ে নিবন্ধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জমি নিবন্ধনে বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম সনদ ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, জন্ম নিবন্ধনে অসংখ্য দ্বৈততা রয়েছে। কেউ ঢাকার বাইরে থেকে নিয়েছে, আবার ঢাকা থেকে নিয়েছে। কেউ নিবন্ধন সনদ হারিয়ে ফেলায় নতুন করে আবার নিয়েছে। এগুলো এখনও বাদ করা হয়নি। সার্ভারে সমস্যার কারণে একই নিবন্ধন একাধিকবার করার নজিরও আছে। তবে নতুন সফটওয়্যার স্থাপনের পর দ্বৈত নিবন্ধন খুঁজে বের করা যাচ্ছে। বর্তমানে দেশ ও দেশের বাইরে মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার স্থান থেকে জন্ম নিবন্ধন করা যাচ্ছে; যদিও রোহিঙ্গা ইস্যুর পর থেকে এসব বিষয়ে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেল মানিক লাল বণিক বলেন, আমাদের আগে অনেক সমস্যা ছিল। সেগুলো কাটিয়ে আমাদের কার্যক্রম নির্ভুলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। কিছু সমস্যার কারণে এক কোটির বেশি জন্ম নিবন্ধনে হেরফের হয়েছে। তবে এই হিসাবে মৃত ব্যক্তিদের নিবন্ধন বাদ যায়নি। সূত্র: কালের কণ্ঠ
বার্তা বাজার/এসজে