স্বাধীনতার ৫০ বছরেও পাকা হয়নি রাস্তা, বৃষ্টি হলেই চলাচলের অনুপযোগী

রাজধানী ঢাকার পাশে থাকার পরেও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও উন্নত হয়নি উপজেলার বালুরচর ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ডের মানুষের জীবন মান। ঢাকা থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার এবং ঢাকা মাওয়া মহাসড়ক ও কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে চান্দের চর, খাসকান্দি, মদিনা পাড়া, মার্কেট পাড়া, পূর্ব চান্দের চর ও পশ্চিম চান্দের চরের অবহেলিত রাস্তাঘাটের বাস্তব চিত্র এটি।

রাস্তাঘাট গুলো পাকাকরণের অভাবে খানাখন্দে জর্জরিত হয়ে আছে। ছোটবড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি তো আছেই। পথচারী ও যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে অহরহ। সড়কের ইট উঠে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ওইসব গর্তে পানি আটকে থাকে দীর্ঘদিন। এতে যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয় ।

রাজধানীর এতো কাছে হওয়া সত্ত্বেও রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখলে বুঝা যায় স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছরেও এই এলাকাগুলোতে সরকারের কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এলাকায় বসবাসরত ১৩ হাজার মানুষ, ১৫ টি মসজিদ, ২ টি মাদরাসা, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কমিউনিটি কিনিক, ৩ টি পাকা ব্রীজ, ৩টি নৌকা ঘাট, ৩টি বাজার, ২ টি ঈদগাহ ময়দানসহ ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ ময়দান রয়েছে এই এলাকায়।

গ্রামবাসীদের সাথে কথা হলে অনেকেই বলেন, আমাদের এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল দশা দেখার কেউ নেই। মোঃ মজর আলী বলেন, এমপি আসে, এমপি যায়, কিন্তু আমাদের কোন কাজ হয় না। আরসাদ মিয়া বলেন অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেয় আমাদের যাতায়াতের পথ রাস্তা ঘাট ঠিক ঠাক করে দিবে। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর গ্রামবাসীদের খোজ-খবর নেয় না। মাঝে মধ্যে কিছু টাকা বরাদ্দ দিলেও তা ঠিক মত কাজ করেনা।

উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, উপজেলার ১৪টা ইউনিয়নের মধ্যে বালুচর সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন। বালুচর দুইটা ইউনিয়ন হওয়া দরকার ছিল। নদী এপার এক ইউনিয়ন আর ওই পারে আরেকটা। আমি চেষ্টাও করে ছিলাম দুই ইউনিয়ন করার জন্য। দুইটা ইউনিয়ন হলে উন্নয়ন কাজ বেশী করা যেত। এই রাস্তাঘাট গুলা এ অবস্থা থাকতনা। গতবারও কিছু বরাদ্দ দিছি এবারো দেয়া হবে। যাতে এলাকার মানুষ গুলোর দুর্ভোগ কমাতে পারি।

উপজেলা প্রকৌশলী শোয়াইব বিন আজাদ বলেন, এই এলাকার রাস্তার ব্যাপারে আমি অবগত আছি, শীঘ্রই আমরা ব্যবস্থা নেবো।

বার্তাবাজার/মোঃ মিজানুর রহমান/এফএইচপি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর