নীলফামারীতে সরকারি জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ

নীলফামারীর জলঢাকা সরকারি খাস জমি দখল করে বাস কাউন্টারের জন্য পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতির বিরুদ্ধে।

উক্ত সরকারি খাস জমিতে কাউন্টার পাকা ঘর স্থাপনা নির্মাণের ঘটনায় বাসস্ট্যান্ড জুড়ে শ্রমিক এবং মসজিদের মুসল্লীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে অশান্ত হয়ে উঠেছে পৌর শহর। যে কোন মুহুর্তে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

খাস জমি দখলকারী হিসেবে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মজিদসহ ০২ জনের নামে গত ৩১মে নীলফামারী জেলা প্রশাসক, উপজেলার নিবার্হী কর্মকতা ও পৌর মেয়রসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করে মসজিদের মুসল্লীরা। মুসল্লীদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন ওবাইদুর রহমান। অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার জলঢাকা মৌজার- ৫৭, জেএল- ০১, খতিয়ান- ১৮৭ দাগে ৪০ শতাংশ সরকারি খাস জমি রয়েছে। এই খাস জমিতে ০৯জন ব্যক্তির নিটক ০৯ লক্ষ টাকা নিয়ে দোকান ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে শ্রমিক নেতারা। ওই জমির সাথে মসজিদ, কিছু দোকানঘর এবং একটি মাছ চাষের পুকুর রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, মসজিদ যাওয়া রাস্তায় জোরপূর্বক পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী শ্রমিক নেতারা। এ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজে মসজিদ কমিটির সদস্যরা প্রতিবাদ করলে শ্রমিক নেতাদের গুন্ডাবাহিনি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে গত শুক্রবার ০৪ জুন জুমার নামাজ শেষে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সেই ঘটনায় মোঃ আলম নামে একজন সিনিয়র ড্রাইভার শারীরিক ভাবে লাি ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও থানা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন প্রশাসন।

অভিযোগকারী ওবাইদুর রহমান বলেন, যেখানে মুসল্লিরাসহ সাধারন জনগন যাতায়াত করছে, সেই রাস্তায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। সেই জায়গাটি সরকারের খাস খতিয়ান ভূক্ত জানা স্বর্তেও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি/সাধারন সম্পাদক শ্রমিকদের জন্য বাসকাউন্টার ঘর পাকা স্থাপনা নির্মাণের নামে খাসজমি দখলের পায়তারা করছে।

এলাকাবাসি এমদাদুল হক বলেন, সন্ধ্যা হলেই বাসস্টান্ডে যানজট লেগে থাকে, তাই যানজট নিরসনের জন্য আমরা মসজিদের মুসল্লি ও জনগনের স্বার্থে সরকারি খাসজমিতে কোন প্রকার অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে দিবো না। তবে এই অভিযোগটি মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি সাধারণ শ্রমিকদের।

তারা জানান, যানজটের কারনে দুর-পাল্লার যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তিত্বে পড়তে হয়। তাই পরিতক্ত জায়গায় দুর-পাল্লা বাসের কয়েকটি কাউন্টার ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মজিদ বলেন, পথচারী ও যাত্রীদের সুবিধার্থে পরিত্যক্ত জায়গায় যেখানে ময়লা আবর্জনা দিয়ে ভরাট ছিলো, জায়গাটি পরিস্কার না থাকায় স্বাস্থ্যঝুকি ছিলো। সেই অপরিছন্ন জায়গাটি পরিস্কার করে কয়েকটি বাসকাউন্টার নির্মাণ করেছি।

তিনি জানান, জলঢাকায় কিছু রাঘব বোয়াল আছে তারা সরকারের খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে, তাদের জায়গা উদ্ধার করা হউক।

তারিকুল ইসলাম সোহাগ/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর