নেশা করতে বাধা দেয়ায় শিক্ষককে পেটালো ছাত্র

এম এ মালেক,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নেশা করতে নিষেধ করায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ীয়া গ্রামের রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক আইয়ুব আলীকে (৩৮) মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকালে ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর বখাটে ছাত্র সাব্বির হোসেন(১৫) ও তার স্বজনরা প্রকাশ্য জনসম্মুখে দুই দফা মারপিট করে গুরুতর আহত করেছে।

আহত শিক্ষক আইয়ুব আলীকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন করে স্কুল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে।

এ সময় ওই স্কুলের সব ধরণের পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে তাড়াশ থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর বেলা পৌনে ১২টার দিকে পরীক্ষা শুরু হয়। এ ব্যাপারে গণিত শিক্ষক আইয়ুব আলী বলেন, উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বিপাচান গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ও রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সাব্বির হোসেন প্রায়ই শ্রেণী কক্ষে বসে অথবা বিদ্যালয় মাঠে বসে অন্যান্য ছাত্রদের সামনেই ড্যান্ডি নেশা করে থাকে।

সোমবার (২৪ জুন) ক্লাস চলাবস্থায় শ্রেণী কক্ষে বসে সকল ছাত্রদের সামনেই ড্যান্ডি সেবন করলে তার সহপাঠি শ্রী শিবনাথের কাছে এ বিষয়ে এমন অভিযোগ দেয়। এবং এ ধরণের কাজ করতে তাকে নিষেধ করলে সে আমার সাথে বেয়াদবি শুরু করে। এতে আমি তাকে একটা থাপ্পর দেই।

এ ঘটনার জের ধরে সাব্বির হোসেন,তার ভাই রাব্বি,চাচা আলাউদ্দিন ও রাব্বির বন্ধু কামরুল ইসলাম মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উলিপুর বিপাচান ব্রীজ এলাকায় পথরোধ করে কিল-ঘুষি দেয়। এ খবর বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করতে থাকে। এর মাঝেই সাব্বির গং আবারও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে হামলা চালিয়ে শত শত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের সামনে তাকে আবারও দ্বিতীয় দফা স্টিলের স্কেল দিয়ে এলোপাথারী ভাবে মারপিট করে।

এ সময় তিনি স্টিলের স্কেলের আঘাতে গুরুতর আহত হলে তাকে আশংকাজনক অবস্থায় প্রথমে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিবনাথ, আসিফ হোসেন, রাজু আহমেদ, ইব্রাহীম হোসেন, রাবেয়া খাতুন, মরিয়ম খাতুন সহ অনেকেই জানায়, বিদ্যালয় চলাকালীন বিদ্যালয় মাঠে ও শ্রেণী কক্ষে বসে প্রায়ই ড্যান্ডি নেশা করে। তাকে এ ব্যাপারে নিষেধ করলে সে উল্টো আমাদের উপর চড়াও হয়। তাই আমরা শ্রেণী শিক্ষক আইয়ুব আলীকে বিষয়টি জানাই।

তিনি তাকে এ বিষয়ে নিষেধ করলে সাব্বির তার উপরই উল্টো চড়াও হয়। এর জের ধরে সাব্বির ও তার স্বজনরা গণিতের বিএসসি শিক্ষক আয়ুব আলীকে বেধরক মারপিট করে গুরুতর আহত করে।

এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ফরহাদ হোসেন জানান, আহত শিক্ষককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউজ্জামান নান্নু বলেন,ঘটনার সময় তিনি লাইব্রেরীতে বসে কাজ করছিলেন। বাইরে বিশৃঙ্খলা শুরু হলে তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি বলেন, দোষিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উপযুক্ত বিচার দেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যায় এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে পরীক্ষা শুরু হয়।
তবে তাড়াশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফকির জাকির হোসেন বলেন,শিক্ষক আইয়ুব আলীকে মারধরের বিষয়টি জেনেছি। নিয়মানুযায়ী দোষিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর