রাশেদুল হক, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরের ধড়মোকাম শাহতুরকান হাফেজিয়া মাদ্রাসার চাষকৃত তিনটি পুকুরে বিষ প্রয়োগে প্রায় ১২ লাখ টাকার মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত (২৫ জুন) মঙ্গলবার ভোরবেলা এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ধড়মোকাম হাওয়াখানার তিনটি পুকুরে ধড়মোকাম শাহতুরকান হাফেজিয়া মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসী মাদ্রাসার এতিম ছাত্রদের খরচের জন্য মাছ চাষ করেছিল। এই তিনটি পুকুরে প্রায় ১০ লাখ টাকার রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করে। মাছগুলো কিছুদিন পরেই তারা বিক্রি করত। ভোরবেলা সিদ্দিক ভুইয়া ও তার ছেলে সাইদুর পুকুরগুলোতে বিষ প্রয়োগ করে। বিষ প্রয়োগের ফলে সকালে সব মাছ মরে ভেসে ওঠে। এই মাছগুলো এলাকাবাসী হরিলুট করে।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, এত বড় সর্বনাশ কে করল আল্লাহই জানেন। আমরা এর কোন প্রতিকার চাইনা যা হয়েছে এতে কিছু করার নাই। মাদ্রাসার সভাপতি আশরাফ উদ্দিন বলেন, গ্রামবাসীর মিলে চাঁদা উঠিয়ে মাছ চাষ করি কিন্তু কে বা কাহারা বিষ প্রয়োগ করছে আমরা দেখতে পারিনি। আমি এর কোন প্রতিকার করতে পারবোনা। গ্রামবাসী এর কোন পদক্ষেপ নিতে চাইলে নেবে আমরা নেবনা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সভাপতি ও সেক্রেটারী বলেন, আমরা নামে মাত্র। কিন্তু এতিম খানার দেখাশুনা করেন গ্রামবাসী তারাই মাছ চাষ করছে। আমিও টাকা দিয়েছি কিন্তু এর কোন ব্যবস্থা আমরা নিতে পারবোনা গ্রামবাসী নেবে।
গ্রামবাসীরা জানান, সরকারী আওতাধীন পরিবার পরিকল্পনার এই পুকুর। সিদ্দিক ভুইয়া যখন যে সরকার আসে তখন সে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে সরকার দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পুকুর চাষ সহ হাওয়াখানার সকল কিছু ভোগদখল করে আসছিল। গত ৬মাস পূর্বে ওয়ার্ড মেম্বার মকবুল হোসেন ও গ্রামবাসী মিলে পুকুরগুলো মাদ্রাসার জন্য মাছ চাষ করবে বলে সিদ্দিককে জানান, তখন তিনি তার চাষকৃত মাছ মেরে নিয়ে যায়। তারপর ওয়ার্ড মেম্বার, মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও গ্রামবাসী মিলে পুকুরে মাছ চাষ করেন। কিন্তু সরকার দলীয় হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আবারও ভোগদখলের জান্য আগের দিন (২৪ জুন) সিদ্দিক ভুইয়া (ভান্ডারী) ও তার ছেলে সাইদুর এলাকার লোকজনকে হাঁস/মুরগি পুকুরে ছেড়ে দিতে বারন করে বলেন, আমরা আগামী (২৫ জুন) সকালে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করবো। ভোরবেলা সিদ্দিক ভুইয়া (ভান্ডারী) ও তার ছেলে সাইদুর পুকুরগুলোতে বিষ প্রয়োগ করলে এলাকার একজন লুকিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে।
কিন্তু সভাপতি ও সেক্রেটারী এর কোন পদক্ষেপ নিতে চাইছেনা হয়তো তারাও এর সঙ্গে জরিত আছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ হুমায়ুন কবীর বলেন, মাছ নিধনের ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ এখনো পায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।