কে হচ্ছেন ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট?
ইরানের বহুল প্রতীক্ষিত ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ শুক্রবার (১৮ জুন)। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে নিবন্ধন করা ৫২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসাবে অনুমোদন পেয়েছিলেন সাতজন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসহ মোট চারটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।
নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক হারে ভোটদানের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। তিনি বলেন, শত্রুরা তার দেশের নির্বাচনে জনগণের উপস্থিতি কমিয়ে দিয়ে ইরানকে সন্ত্রাসবাদের চারণভূমিতে পরিণত করতে চায়। কিন্তু জনগণ সে ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না।
চলমান এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া আজ শুক্রবার (১৮ জুন) সকাল ৭টায় শুরু হয়ে চলবে রাত ১২টা পর্যন্ত। তবে প্রয়োজনে ভোট দানের সময় আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। আগামীকাল শনিবার (১৯ জুন) দুপুরের আগেই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
তবে, তিনজন প্রার্থী শেষ সময়ে এসে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এখন পর্যন্ত চারজন। এরা হলেন, সাবেক সাংবাদিক ও মধ্যপন্থী নেতা আবদুল নাসের হেমাতি (৬৪), ইরানের গোয়েন্দা বাহিনীর সাবেক প্রধান মহসীন রেজাই (৬৬), রক্ষণশীল ঘরনার চিকিৎসক নেতা আমির হোসেন ঘাজিজাদ্দে হাশেমি (৫০), ইরানের প্রধান বিচারপতি ইব্রাহিম রায়িসি (৬০)। এদের মধ্যে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ ইব্রাহিম রায়িসি।
এরআগে তেহরানে দ্বিতীয় টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৭ প্রার্থী। তুলে ধরেন প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা। তবে শেষপর্যন্ত টিকে থাকার লড়াইয়ে ৪ জনের দেখা মেলে নির্বাচনের মূল যুদ্ধে।
প্রতিশ্রুতিপত্র অনুযায়ী দুর্নীতিমুক্ত এবং সামরিকভাবে শক্তিশালী ইরান গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রার্থীরা। তবে ইরানের নতুন সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে দেশটিকে আরও শত শত নিষেধাজ্ঞার জন্য অপেক্ষা করতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
কাশেমী সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের পর ইরান তার সামরিক শক্তি বাড়ানোর চিন্তা করলে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আসছিলো। এবারের নির্বাচনে তাই প্রার্থীরা সেটিকে আমূলে নিয়েই তাদের এজেণ্ডা তুলে ধরেন।
বার্তাবাজার/এফএইচপি