রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জে শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়ার জের ধরে স্ত্রীকে হত্যার পর পাশের একটি ডোবায় তার লাশ লুকিয়ে রাখে পাষণ্ড স্বামী। হত্যার প্রায় সাত মাস পর সেখান থেকে নিহত স্ত্রীর কঙ্কাল উদ্ধার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ইকবাল (৩৫) ও ছোট বোন আরিফা আক্তার (২০)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ই জুন) দুপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পেছনে চর কদমপুর এলাকার আজিজুলের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে নিহত গৃহবধূর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। নিহত গৃহবধূর নাম মোহনা (২৫)।
জানা যায়, ইকবালের সঙ্গে মোহনার বিয়ের পর মোহনার মা রহিমা বেগম সংসারের অভাব অনটনের কারণে ছোট মেয়ে আরিফাকে মোহনার বাড়িতে রেখে বিদেশে চলে যায়। এর পর থেকেই আরিফা ও ইকবালের অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে তাদের পরকীয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে আরিফাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে ইকবালকে নিয়ে মোহনা তার নিজ গ্রাম ছেড়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পিছনে চর কদমপুর আজিজুল মিয়ার বাড়িতে দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতে শুরু করে। এ সময় স্ত্রীর সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ না থাকলেও শ্যালিকার সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখতো। এক পর্যায় স্ত্রী মোহনাকে কে হত্যা করে পাশের ডোবার কাদার মধ্যে লুকিয়ে রাখে পাষণ্ড স্বামী ।
মোহনার মা রাহিমা জানান, আমি বিদেশে থাকার কারণে ছোট মেয়ে বড় মেয়ের সাথেই থাকতো। কিন্তু বড় মেয়ের স্বামীর সাথে ছোট মেয়ের খারাপ সম্পর্ক ছিলো। বহু কষ্ট করেও তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড ফিরানো যায়নি। পরে গত ২২শে নভেম্বর শুনি আমার বড় মেয়ে মোহনা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। কিন্তু আমার এটা বিশ্বাস হয়নি। তাই বাড়িতে এসে গত ১১ জুন (শুক্রবার) মেয়ের জামাই ইকবাল ও ছোট মেয়ে আরিফাকে আসামি করে থানায় অভিযোগ করি। পরদিন শনিবার (১২ জুন) জামাই ইকবাল ও ছোট মেয়ে আরিফাকে আটক করে পুলিশ। মেয়ের জামাই ইকবালে স্বীকারোক্তিতেই মেয়ের কংকাল উদ্ধার করা হয়েছে। আমি মেয়ে হত্যাকারীর বিচার চাই। আমার ছোট মেয়ে জড়িত থাকলে তারও বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) শাহাবুদ্দিন কবির এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
রানা আহমেদ/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এ,